ভালো রাখুন ফুসফুস

ভালো রাখুন ফুস ফুস

ফুসফুসের ফোঁড়া বুকে জমে থাকা পুঁজ

আমরা শরীরের উপরি ভাগে বিশেষ করে চামড়ার বিভিন্ন অংশে ফোঁড়া হতে দেখি, যেমন- থাকে টনটনে ব্যাথা তেমনি থাকে কাঁপুনিসহ জ্বর| বুকে ফোঁড়া হলে কিংবা পুঁজ জমলে অনেকটা এই ধরণের লড়্গণের প্রকাশ পায়।
ফুসফুসে ফোড়া হলে লড়্গণগুলি নিম্নরূপ :

  1. উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর (>103 ডিগ্রী ফারেনহাইট) হয়। জ্বর শীত করে কেঁপে কেঁপে আসে।
  2. কাশি হয়ে থাকে, কাশির সাথে প্রচুর কফ বের হতে থাকে। কফ হয়ে থাকে ঘন, হলুদ এবং দূর্গন্ধযুক্ত। মাঝে মাঝে কফের সাথে রক্ত আসতে পারে।
  3. রোগীকে দেখতে খুবই অসুস্থ ও দুর্বল মনে হয়।

বিভিন্ন কারণে বুকে ফোঁড়া হতে পারে যেমন :-

  1. নিউমোনিয়ার চিকিৎসা সময় মত করা না হলে।
  2. মুখের জীবাণু যুক্ত লালা শ্বাসণালীতে চলে গেলে।
  3. শ্বাসণালীতে বাইরের কোন বস্তু ঢুকে আটকে গেলে।
  4. যারা তাদের শিরায় বিভিন্ন রকম নেশা জাতীয় দ্রব্য নেয়, তাদের ড়্গেত্রে বিভিন্ন জীবাণু, রক্ত দ্বারা বাহিত হয়ে ফুসফুসে যেয়ে ফোঁড়া তৈরি করতে পারে।  

কাদের ফোাঁড়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশী ?

  1. যাদের মুখ গহ্বর, দাঁত ও দাঁতের মারি রোগাক্রানত্ম কিংবা অপরিষ্কার।
  2. যাদের ডায়বেটিস অনিয়ন্ত্রিত।
  3. যাদরে পূর্ব থেকেই ড়্গতিগ্রসত্ম ফুসফুস রয়েছে, প্রভৃতি।

ফোঁড়া হতে বাঁচার উপায়-

  1. মুখ গহ্বর, দাঁত ও মাড়ির যত্ম নেয়া।
  2. ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণ রাখা।
  3. যথাযথভাবে এবং দ্রম্নত নিউমোনিয়ার চিকিৎসা নেয়া, প্রভৃতি।

ফুসফুসে ফোঁড়া হলে দীর্ঘদিন নির্ধারিত এন্টিবায়োটিকটি যথাযথ মাত্রায় মাত্রায় সেবন করতে হয়। কিছু কিছু ড়্গেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন হয় যেমন- ফোঁড়া যদি আকারে বড় হয়, ফোঁড়া যদি ফেটে যায় অথবা ফোঁড়া থেকে যদি রক্ত  ড়্গরণ হয়, প্রভৃতি।

বুকে পুঁজ জমা : বুকে পুঁজ জমা বলতে বুঝায়, ফুসফুসের চারিদিকে যে আবরণী রয়েছে সেই আবরণীর দুই সত্মরের মধ্যে পুঁজ জমা। সেই ড়্গেত্রে রোগীর মধ্যে নিম্নলিখিত লড়্গণগুলি থাকতে পারে যেমন-

  1. রোগীকে খুবই অসুস্থ দেখায়।
  2. রোগীর প্রচন্ড জ্বর (উচ্চ তাপমাত্রা) আসতে পারে, জ্বর যখন আসে শীত করে এবং কেঁপে কেঁপে আসে।
  3. পুঁজ যে পাশে জমে, সে পাশটা ভার হয়ে থাকে এবং প্রচন্ড ব্যাথা হয় এবং ব্যাথার জন্য পরিপূর্ণভাবে শ্বাস পর্যনত্ম নেয়া যায় না। শ্বাস নিতে গেলে বুকের ব্যাথা বেড়ে যায়। অনেক সময় বুকের যে পাশে পুঁজ জমে, সে পাশে কেউ স্পর্শ করলেও রোগী ব্যাথা পায়।

বিভিন্ন কারণে বুকে পুঁজ জমতে পারে, যেমন-

  1. নিউমোনিয়ার জটিলতা হিসেবে।
  2. ফুসফুসের ফোঁড়া ফেটে গেলে।
  3. অন্য কোন কারণে ফুসফুসের পর্দায় জমে থাকা পানিতে সংক্রমণ (ইনফেকশন) হলে, প্রভৃতি।

বুকে পুঁজ জমে থাকার প্রধান চিকিৎসায় হল একটি ছোট নল লাগিয়ে দিয়ে পুঁজ বের করে ফেলা এবং যথাযথ এন্টিবায়োটিক দেয়া।


শ্বাসণালীতে কোন কিছু ঢুকে গেলে কি করণীয় ?

হঠাৎ করে শ্বাসণালীতে বাইরের কোন বস্তু দূর্ঘটনাবসত ঢুকে যেতে পারে যে কারো। তবে এই ঘটচনার সবচেয়ে বড় শিকার হল স্কুলে যাওয়ার ঠিক আগের বয়সের শিশুরা অর্থাৎ ৪/৫ বৎসর বয়স থেকে শুরম্ন করে এর নীচের বয়সের শিশুরা। এর ফলে বাচ্চারা বিভিন্ন প্রকার শারিরীক ভোগানিত্মর ¯^xKvi হয় এবং মৃত্যুর ঘটনাও কম নয়।
আমাদের কাছে মা-বাবার যখন বাচ্চাদের নিয়ে আসেন, তখন তারা এই রকম একটি ইতিহাস দেন যে, বাচ্চা পুঁথি বা মার্বেল দিয়ে খেলছিল, হঠাৎ তা মুখে দিয়ে গিলে ফেলে (মূলত তা অধিকাংশ ড়্গেত্রে চলে যায় শ্বাসণালীতে)। আর তখন থেকেই বাচ্চা ক্রমাগত কাশি, শ্বাসকষ্ট আর বুকে ঘড় ঘড় শব্দ নিয়ে ভুগছে (চিত্র :১২)। শ্বাসাণালীতে কোন কিছু ডুকে যাওয়ার বিষয়টি যদি অভিভাবকদের দৃষ্টিগোচন না হয়, তাহলে সময়ের সাথে সাথে বাচ্চাদের ফুসফুস ক্রমাগত ড়্গতিগ্রসত্ম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই পরিস্থিতিতে বাচ্চারা প্রায়ই ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রানত্ম হতে থাকে। অনেক সময় বাচ্চার গলার স্বর বসে যায়, ঘন ঘন শ্বাস নিতে থাকে প্রভৃতি।
জাতীয় বড়্গব্যাধি ইনিষ্টিটিউট ও হাসপাতালে বিভিন্ন সময় নিয়ে আসা বাচ্চাদের, যারা শ্বাসণালীতে বিভিন্ন রকম আটকে থাকা বস্তুসহ ভর্তি হয়েছে, তাদের শ্বাসণালী থেকে নিম্নলিখিত বস্তুগুলো উদ্ধার হয়েছে। যেমন- (১) বিভিন্ন রকম ফলের বীচি, চিনাবাদাম (২) আলপিন, সেফটিপিন, ছোট পেড়েক (৩) খেলনার ড়্গুদ্র অংশ  (৪) কলমের বিভিন্ন অংশ  (৫) মার্বেল, পুঁথি প্রভৃতি। আর বড়দের ড়্গেত্রে পাওয়া যায়, নকল দাঁত, মাংসের হাড়, সুপাড়ি ইত্যাদি।
বাইরের বস্তু যেন শ্বাসণালীতে চলে না যায়, সেই ড়্গেত্রে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নেয়া যায় যেমন-

  1. চার বছরের নীচের বাচ্চাদের এমন ছোট খেলনা না দেয়া যেগুলির পুরোটা বা খন্ড বিশেষ মুখের মধ্যে বাচ্চারা ঢুকিয়ে ফেলতে পারে। যেমন- ছোট গাড়ি যেটির ছোটর ছোট চাকাও খুলে ফেলা যায়।
  2. এই বয়সের নীচের বাচ্চাদের কিছু ছোট শক্ত খাবার যেমন- শক্ত চকলেট, বাদাম, ফলের বীচি প্রভৃতি না দেয়া।
  3. বাচ্চাদেরকে খাবার ছোট ছোট টুকরো করে দেয়া যাতে খাবার গলায় আটকে না যায়।
  4. খাবার মুখে নিয়ে বাচ্চারা যেন দৌড়া-দৌড়ি বা কথা না বলে।
  5. মার্বেল, সেফটিফিন, কানের দুল, পুুঁথি, ট্যাবলেট প্রভৃতি বাচ্চাদের হাতের নাগালের বাইরে রাখা।
  6. বড়রা অনেক সময় মুখে খাবার নিয়ে কিংবা ঠোট বা দাঁতের ফাঁকে বিভিন্ন জিনিস যেমন ক্লিপ, পেড়েক প্রভৃতি নিয়ে কথা বলে অথবা বিভিন্ন কাজ করে, এই অভ্যাসটি পরিহার করা।
  7. যথাযথ ভাবে নকল দাঁত ব্যবহার করা, যাতে তা শ্বাসণালীতে চলে না যায়।

এক বৎসরের উপরে যাদের বয়স, তাদের ড়্গেত্রে বাইরের বস্তু শ্বাসণালীতে আটকে যেয়ে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারি, একই সাথে যেখানে থোরাসিক সার্জনরা (মূলত তারাই ব্রোঙ্কোসকপি করি শ্বাসণালীর ভিতর থেকে বাইরের বস্তু বের করেন) কাজ করেন সে ধরনের হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

চিত্র : (হেই লিক প্রক্রিয়া)

  1. এই ধরণের রোগীদের শরীরের পিছন দিক দিয়ে দুই ডানার মাঝখানে হাতের তালুর শক্ত অংশ দিয়ে ধাক্কা দিব। তখন কাশির সাথে বস্তুটি শ্বাসণালী থেকে বের হয়ে আসতে পারে। যদি বের না হয়, এই প্রক্রিয়াটি পাঁচবার অনুসরণ করব।
  2. এরপরও রোগীর শ্বাসণালী পরিষ্কার না হলে, আমরা হেইম লিক প্রক্রিয়াটি (চিত্র:২) (heimlich maneuver)  অনুসরণ করতে পারি। এই পদ্ধতিতে রোগীকে পিছন দিক থেকে জাপটে ধরতে হয় এবং হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নাভীর উপর হাত স্থাপন করে ঊর্ধ্বমুখী চাপ দিতে হয়। সফল না হওয়া পর্যনত্ম প্রক্রিয়াটি কমপড়্গে পাঁচবার অনুসরণ করব।
  3. কোন কারণে শ্বাস বা হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে কৃত্রিম শ্বাস বা কার্ডিয়াক ম্যাসেজ দেয়া লাগতে পারে। 

এক বৎসর বয়সের নীচের বাচ্চাদের ড়্গেত্রে আমরা নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারি। তবে এই পদ্ধতি শুরম্ন করলৈও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বিলম্ব হওয়া কাম্য নয়।

চিত্র :

  1. বাচ্চাটা যদি অজ্ঞান থাকে তবে তাকে কৃত্রিমভাবে শ্বাস এবং কার্ডিয়াক ম্যাসেজ দিতে হবে।
  2. বাচ্চার যদি জ্ঞান থাকে কিন্তু বাইরের বস্তু শ্বাসণালীতে ঢুকে যাওয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট হতে থাকে, তাহলে বাচ্চাটিকে উপর করে (চিত্র : ৩) আপনার একটি বাহুর উপর নিন। বাচ্চাটির ভর সামলানোর জন্য হাতসহ বাচ্চাটিকে সেই পাশের উরম্নর উপর রাখতে পারেন। অপর অব্যবহৃত হাত দিয়ে বাচ্চার দুই ডানার মাঝখানে চাপড় দিই (চিত্র : ৪)। এভাবে পাঁচবার চাপড় দেয়ার পর বাচ্চার মুখ পরীড়্গা করে দেখুন, বস্তুটি শ্বাসণালী থেকে বের হয়ে মুখে চলে এসেছে কিনা, তাহলে আঙ্গুল দিয়ে বস্তুটি বের করে নিয়ে আসেন।
  3. এরপরও বস্তুটি বের হয়ে না আসলে বাচ্চাটিকে চিৎ করে শুইয়ে বুকের মাঝখানের হাড়ের উপর পাঁচবার চাপ দিই (চিত্র : ৪) এবং খেয়াল করি শ্বাসণালীতে ঢুকে যাওয়া বস্তুটি মুখে চলে এসেছে কিনা ?  
  4. শ্বাসণালী থেকে বস্তুটি বের না হওয়া পর্যনত্ম একবার উপর করে আরেকবার চিৎ করে বারবার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করি এবং একই সাথে নির্দিষ্ট হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা নিতে থাকি।

যড়্গা প্রতিরোধের উপায়

বিশ্বে যতগুলি যড়্গা প্রবণ দেশ রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। অথচ অনেক ড়্গেত্রেই এই রোগটি প্রতিরোধ যোগ্য।

  1. যড়্গা প্রতিরোধের সাথে ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা জরম্নরী যেমন- যেখানে সেখানে থুথু না ফেলা, হাঁচি কাশির সময় নাক মুখ ঢাকা।
  2. জন্মের পরপরই যড়্গা প্রতিরোধি বি.সি.জি টীকা নিয়ে নেয়া। এই টীকা মোটামুটি সাত বৎসর বয়স পর্যনত্ম ফুসফুস ও ফুসফুস বহির্ভূত যড়্গার বিরম্নদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি যোগায়। আমরা ভাগ্যবান এই জন্য যে এই টীকাটি আমাদের সার্বজনিন টীকা দান কর্মসূচীর মধ্যে অনত্মর্গত অর্থাৎ বাচ্চা বয়স সব টীকা দেয়া হলে থাকলে আমরা ধরে নিব তার বিসিজি টীকাটিও দেয়া হয়ে গেছে।
  3. সুশৃঙ্খল জীবন যাপন, সুষম খাবার এবং পরিবেশে বসবাস যড়্গা প্রতিরোধের জন্য গুরম্নত্বপূর্ণ। একত্রে গাদাগাদি করে বসবাস যড়্গার বিসত্মার বাড়ায়। ঠিক একইভাবে পুষ্টিহীনতা যড়্গা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
  4. ধূমপান, মদ্যপান কিংবা অন্য যে কোন নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করলে যড়্গা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
  5. ডায়বেটিস থাকলে তা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করম্নন। অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিসে যড়্গা হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

কফে যড়্গার জীবণু আছে, এরূপ রোগীকে যড়্গার ঔষধ সঠিকভাবে গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা। কারণ তাদের মাধ্যমে মুলত রোগটি থাকে।  

ফুসফুস চুপসে যাওয়ার ার

ফুসফুসকে তুলনা করা হয় বেলুনের সাথে। শ্বাসের সাথে বাতাস ঢুকলে এটি বুক জুড়ে ফুলে উঠে আর প্রশ্বাসের সাথে কিছুটা বাতাস বেরিয়ে গেলে এটি আয়তনের খানিকটা কমে যায়।

  1. শ্বাসণালী বন্ধ হয়ে ফুসফুস চুপসে যাওয়া : বেলুনের মত ফুসফুসেরও একটি মুখ রয়েছে  যেখানে দিয়ে ফুসফুসের ভিতর বাতাস ঢুকে। ফুসফুসের এই মুখে যুক্ত থাকে বৃহৎ আকৃতির শ্বাসণালী। এই শ্বাসণালী দিয়ে বাইরের পরিবেশ বাতাস টেনে নিয়ে আমরা ফুসফুসকে ফুলিয়ে রাখি। শ্বাসণালী কোন কারণে বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের ফুসফুস চুপসে যায়। শ্বাসণালী বন্ধ হয়ে যেতে পারে নানা কারণে। যেমন- এর ভিতর টিউমার হলে, কফ জমে আটকে গেলে, বাইরের কোন বস্তু শ্বাসণালীর ভিতরে যেয়ে আটকে গেলে যেমন- ফলের বীচি, নকল দাঁত প্রভৃতি। আবার শ্বাসণালীর উপর বাইরে থেকে চাপ পড়লে বিশেষ করে কোন টিউমার দিয়ে শ্বাসণালী চেপে গেলে ফুসফুস চুপসে যেতে পারে।
  1. ফুসফুসকে বাইরে থেকে চাপ দিয়ে চুপসে দেয়া : বড়্গ গহ্বরে পানি, বাতাস, রক্ত কিংবা পুঁজ জমা হলে তা ফুসফুসকে চারদিক থেকে চেপে ধরে এবং এদের পরিমাণ বেশী হলে বুকের মধ্যে চাপ আরো বেড়ে যায় ফলে ফুসফুস ক্রমাগত চুপসে যেতে থাকে।

 

  1. ড়্গতিগ্রস্থ ফুসফুস কুঁচকে যাওয়ার কারণে ফুসফুসের চুপসে যাওয়া : ফুসফুসে যড়্গা, নিউমোনিয়া কিংবা ফোঁড়া হলে ছোট বড় ড়্গতের সৃষ্টি হয়। এই সব ড়্গত সেরে গেলে তা তন্তু জাতীয় টিস্যু দ্বারা ভরাট হয়, ফলে ফুসফুসের কোন কোন জায়গা কুঁচকিয়ে যায় ফলে এর আশেপাশের কিছু অংশ চুপসে যেতে পারে।

ফুসফুস চুপসে গেলে সাধারণত শ্বাসকষ্ট হয়, অনেক  ড়্গেত্রে বুকে ব্যাথা হতে পারে। এছাড়া  যে সব রোগের কারণে ফুসফুস চুপসে যেয়ে থাকে, অধিকাংশ ড়্গেত্রে সে সব রোগের লড়্গণগুলি প্রকাশ পেয়ে থাকে।  
ফুসফুস দীর্ঘ দিন চুপসে থাকলে সময়ের সাথে সাথে কার্যকারিতাও হারাতে থাকে। কিন্তু সময়ের মধ্যে যদি ফুসফুসের বাইরের পানি, বাতাস কিংবা পানি চাপ অপসারণ করা যায় অথবা ফুসফুসের শ্বাসণালীর ভিতরের টিউমার অপসারণ করা যায় তাহলে ফুসফুস চুপসে যাওয়া অবস্থা থেকে অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।




আগুনে পোড়া শ্বাসণালী

আগুনে পোড়া শ্বাসণালী যেমন রোগীর কষ্ট এবং যন্ত্রনা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয় তেমনি একইভাবে অনেক ড়্গেত্রে তাঁর চিকিৎসকগণও অসহায় হয়ে পড়েন। আগুনে পোড়া শ্বাসণালীর রোগীর চামড়ায় পোড়া ড়্গতসহ অথবা অনেক ড়্গেত্রে কোন প্রকার পোড়া ড়্গত ছাড়াও আসতে পারেন। শ্বাসণালী ড়্গতিগ্রস্থ হওয়ার এ ধরনের রোগী পরবর্তীতে সহজেই নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিলতায় আক্রানত্ম হয়ে থাকেন। আগুনে পোড়া চামড়ার ড়্গেত্রে সহজেই চোখে পড়ে, কিন্তু শ্বাসণালী পুড়ে যাওয়ার লড়্গণগুলি প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা না দিতে পারে, অনেক ড়্গেত্রে লড়্গণগুলি দেখা দেয় ঘটনার ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টার পর। শরীরে পোড়াড়্গত বেশী জায়গা জুড়ে থাকলে, অনেক ড়্গেত্রেই চিকিৎসকরা আন্দাজ করে নেন, রোগীর শ্বাসণালীও হয়ত পুড়ে গেছে। আগুন লাগলে শ্বাসণালী পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে পাঁচ বৎসরের নীচের বাচ্চাদের এবং পঁচাত্তর বৎসরের অধিক বয়স্কদের।

শ্বাসণালী আগুনে কত ড়্গতিগ্রস্থ হয়েছে তা নির্ভর করে-

§  অগ্নিকান্ড কোন বদ্ধ জায়গা ঘটেছে কিনা ? (যেমন কাঁচ দিয়ে ঘেরা শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিতত কড়্গ)

§  অগ্নিকান্ড কোন বদ্ধ জায়গায় ঘটেছে কিনা ?  (যেমন কাঁচ দিয়ে ঘেরা শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কড়্গ)

§  কতড়্গণ যাবত ব্যক্তিটি আগুন এবং ধোঁয়ার মধ্যে ছিলেন ?

§  কি ধরনের বস্তু পুড়েছে এবং তা থেকে কি ধরনের ড়্গতিকর ধোঁকা বের হয়েছে ?

§  রোগী আগে থেকে কোন শ্বাসের রোগে ভুগছে কিনা ?

§  কিভাবে আপনাপর শ্বাসণালী আগুনে ড়্গতিগ্রস্থ হতে পারে ?

মূলত তিন পদ্ধতিে শ্বাসণালী ড়্গতিগ্রস্থ হয়-

1.      আগুনে উৎপন্ন তাপ দ্বারা তৈরী ড়্গত।

2.      প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন বিষাক্ত গ্যাস দ্বারা শ্বাস রোধ হওয়া।

3.      ধোঁয়া ফুসফুস এবং শ্বাসণালীর উত্তেজক হিসাবে কাজ করতে পারে।

 

1.      আগুনে উৎপন্ন তাপ দ্বারা তৈরী ড়্গত : তাপের কারণের সাধারণত যে ড়্গত হয় তা মুখ গহ্বর সংলগ্ন শ্বাসের পথ (oropharynx) পর্যনত্ম সীমাবদ্ধ থাকে। তবে এর সাথে বাষ্প এবং বিস্ফোরণ যুক্ত হলে যে যেমন- কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হওয়া। শ্বাসণালীর ড়্গত পৌঁছে যেতে পারে ফুসফুসের গভীরে।

2.      প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন বিষাক্ত গ্যাস দ্বারা শ্বাস রোধ হওয়া : প্রচুর পরিমান ধোঁয়াতে যদি শ্বাস রোধ হয়ে আসে, তাহলে তা আমাদের শরীরের কোষগুলিতে অক্সিজেনের ঘাটতি ঘটায়। অগ্নিকান্ডে স্থলে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়, তার উপর যদি, পোড়া বস্তু থেকে কার্বন মনো-অক্সাইড (CO) তৈরি হয়, তবে আমাদের শরীরের কোষগুলিতে অক্সিজেন ঘাটতিে আরো প্রকট হয়। তাছাড়া কার্বন মনো অক্সাইড হার্টের পাম্প করার ড়্গমতাও কমিয়ে দেয়। অগ্নিকান্ডের সময় যদি পস্নাষ্টিক (বিভন্ন রকম কারখানায় মজুদ থাকে), উল, সিল্ক, নাইলন, রাবার এবং কাগজ জাতীয় পদার্থ (গার্মেন্টস জাতীয় কারখানায় অধিক পরিমাণ থাকে। পুড়ে, তাহলে প্রচুর পরিমাণে সায়ানাইড তৈরি হয়। এই সায়ানাইড কার্বন মনো অক্সাইডের চেয়ে বিশ গুণ বিষয়াক্ত এবং এই পদার্থটি আক্রামনাত্মক ব্যক্তি দম বন্ধ করে দিতে পারে।

 

3.      ধোঁয়ার কারণে শ্বাসণালী উত্তেজিত হলে, তাতে প্রদাহের সৃষ্টি হয় ও শ্বাসণালী সংকুচিত হয় এবং শ্বাসণালীর কোষগুলি হতে নি:সৃত পদার্থ দ্বারা ছোট ছোট শ্বাসণালীগুলি বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া শ্বাসণালী, ছাই জাতীয় দ্রব্যাদি দ্বারাও অনেক ড়্গেত্রে বন্দ হয়ে যেতে পারে।

 

একজন সাধারণ মানুষ কিভাবে বুঝবেন, আগুনে পোড়া রোগীটির শ্বাসণালী মারাত্মাকভাবে আক্রানত্ম হয়েছে ?

1.      আক্রানত্ম ব্যক্তির গলার   পরিবর্তিত হয়ে যায়, অনেক ড়্গেত্রে তা কর্কশ   পরিণত হয়।

2.      ব্যক্তি দ্রম্নত শ্বাস নিতে থাকে অর্থাৎ তার শ্বাস কষ্ট হয়।

3.      ব্যক্তির জিহ্বা, হাতের নখ বা শরীরের অন্যান্য অংশ নীল বর্ণ ধারণ করে।

4.      লোকটি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলতে পারে।

5.      তার শ্বাসের সাথে বুকে ক্রমাগত আওয়াজ হতে থাকে।

6.      তার কফের সাথে কালো কালো ছাই জাতীয় পদার্থ আসতে পারে।

 

§  চিকিৎসক প্রাথমিক পর্যায়ে বুকের এক্সরে রিপোর্ট পেলেও খুশী নহ না, অনেক ড়্গেত্রেই শ্বাসণালীর পরিবর্তন গুলি আসে ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টার পর।

§  এছাড়াও চিকিৎসকগণ রোগীর অবস্থা বুঝার জন্য রক্তে বিভিন্ন গ্যাসের পরিমাণ দেখেন, কিডনী ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা বুঝে নেন, হার্টের অবস্থা বুঝার জন্য ই.সি.জি করে নেন, এছাড়াও শ্বাসণালীর অবস্থা সঠিকভাবে দেখার জন্য অধিকাংশ ড়্গেত্রে ব্রঙ্কোসকপি করে নেন।

একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে শ্বাসণালী পোড়া রোগীকে কিভাবে সাহায্য করতে পারেন ?

1.      যত দ্রম্নত সম্ভব অগ্নিকান্ডের স্থান থেকে রোগীকে অপসারণ করে মুক্ত খোলা স্থানে নিয়ে আসেন।

2.      নাক মুখে ছাই বা কিছু আটকে থাকলে তা অপসারণ করম্নন।

3.     আপনি যদি রোগীর জন্য দ্রম্নত প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে পারেন, তবে নিঃসন্দেহে আপনি চিকিৎসার প্রথম ধাপ পূরণ করেছেন।

4.       বহনের সময়ও রোগী যাতে যথেষ্ট অক্সিজেন পায় সেদিক নজর রাখুন।

5.     যে সব হাসপাতালে বার্ণ ইউনিট আছে, সে সব হাসপাতালে এ সকল রোগীর জন্য সবচেয়ে ভাল চিকিৎসালয়। তবে এর সাথে খেয়াল রাখা উচিত এই সকল চিকিৎসা কেন্দ্রের নিবিড় পর্যবেড়্গণ কেন্দ্র (আ.সি.ইউ) আছে কিনা? কারণ শতকরা পঞ্চাশ ভাগ শ্বাসনালী পোড়া রোগীর কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাসের যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। এর সাথে এই সব হাসপাতালে বড়্গব্যাধি বিশেষজ্ঞ থাকলে তা হবে সোনায় সাহাগা।

6.     রোগী যদি পূর্বে থেকে অ্যাজমাসহ ফুসফুসের অন্যান্য রোগে ভুগতে থাকেন, তাহলে সংশিস্নষ্ট চিকিৎসককে অবহিত করম্নন।

 

শ্বাসণালী পোড়া কো কোন রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি থাকা উচি ?

যে সকল ব্যক্তির শ্বাসণালী আগুন এবং এর ধোঁয়া দ্বারা আক্রানত্ম হয়েছে, তাদের সবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সাধারণ ড়্গেত্রে কম পড়্গে চার থেকে ৬ ঘন্টা চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকা ভাল। নিম্ন লিখিত বিষয়গুলি রোগীর মধ্যে উপস্থিত থাকলে আক্রানত্ম ব্যক্তির হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত :

1.      যদি এমন ঘটনা ঘটে, অক্সিকান্ডে একটি বদ্ধ ঘরে ঘটেছিল (যেমন আপনার শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার ল্যাব) এবং আক্রানত্ম ব্যক্তিটি সেখানে দশ মিনিটের বেশী আটকে ছিলেন।

2.      যদি আক্রানত্ম ব্যক্তির কাশির সাথে ঘন কালো কফ বের হয়।

3.      ব্যক্তিটি যদি শ্বাস কষ্টে ভুগতে থাকেন।

4.      শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে ব্যক্তিটির বুক থেকে যদি বাঁশির আওয়াজের মত শব্দ বের হতে থাকে।

5.      আক্রানত্ম ব্যক্তির মুখ মন্ডল যদি পুড়ে যেয়ে থাকে।  

 

দুর্ঘটনা পরবর্তী জটিলতা : আমেরিকার একটি গবেষণায়, সাড়ে আটশত জন দশ থেকে আঠার বৎসর বয়সি শ্বাসণালী পোড়া রোগীদের মধ্যে দেখা গেছে, সেখানে মৃত্যুর হার ১৬.৪% এবং এই ড়্গেত্রে শ্বাসণালী পোড়ার সাথে যদি চামড়ায় পোড়া ড়্গত থাকেত তাহলে মৃত্যুর হার চার গুণ বেশী। আক্রানত্মব্যক্তি ক্রমাগত সুস্থ হয়ে উঠতে থাকলেও ফুসফুস কিছু কিছু সমস্যা থেকে যেতে পারে। ড়্গতিগ্রস্থ প্রধান শ্বাসণালীগুলি স্থায়ীভাবে সরম্ন হয়ে যেতে  পারে।

অপর দিকে শ্বাসণালীর কিছু কিছু অংশ ড়্গতিগ্রস্থ হয়ে এর দেয়ালের স্থিতি স্থাপকতা নষ্ট হয়ে স্থায়ীভাবে প্রসারিত (bronchiectasis) থেকে যায়। ফলে এই শ্বাসণালীগুলি ঘন ঘন জীবাণু দ্বারা আক্রানত্ম হয়।

ফুসফুসের কোন কোন অংশে প্রদাহ জনিত তরল (pulmonary edema) জমে, এর অক্সিজেন সরবরাহের ড়্গমতা কমিয়ে দেয়। আবার অনেক ড়্গেত্রে ফুসফুসের কিছু কিছু অংশ চুপশে যেয়ে (atelectasis) অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া নিউমোনিয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের বিকলতা (respiratory failure) হল এর মারাত্মক জটিলতা গুলির অন্যতম।

 

কিভাবে আপনি আপনার শ্বাসণালীকে অগ্নিকান্ডের সময় রড়্গা করবেন ?

1.      সবচেয়ে ভাল উপায় হল, অগ্নিকান্ড প্রতিরোধ করা। আধুনিকতার নামে অনেক ড়্গেত্রে আমার আমাদের ঘর-বাড়ি, অফিস, স্কুল, মার্কেট কংক্রিট এবং কাঁদ দিয়ে ঘিরে ফেলে তথাকথিত শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত আবদ্ধ কড়্গে পরিণত করছি। এই সকল আবদ্ধ কড়্গে অগ্নিকান্ড হলে শ্বাসণালী সবচেয়ে বেশী ড়্গতিগ্রস্থ হয়। তাই সব  কড়্গেই থাকা উচিৎ  বায়ু চলা চলের ব্যবস্থা। অগ্নিকান্ডের সময় সম্ভব হলে সব দরজা জানালা খুলে দিয়ে ধোঁয়া বাইরে বেরিয়ে যেতে দিন অথবা বাইরের দিকে কাঁদের দেয়াল থাকলে তা ভেঙ্গে দিয়ে ধোঁয়া বেরিয়ে যেতে দিন।

অনেক বহুতল ভবনই অগ্নিকান্ডের সময় বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। নিচের দিকে কোন তালায় অগ্নিকান্ড হলে সবাই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার চেষ্টা করেন। উপরে উঠুন, তবে নিশ্চিত থাকুন। ছাদের দরজা খোলা আছে, তা না হলে আপনি ধোঁয়ার ফাঁদে আবদ্ধ হতে পারে।

 

2.      খেয়াল রাখুন আপনার আসবাবপত্রগুলি যেন এমন বস্তু দিয়ে তৈরি হয়, যাতে তা পুড়ে গেলেও, তা থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া যেন বিষাক্ত না হয়।

3.      যদি আপনার গৃহে কিংবা কারখানায় অতিরিক্ত দাহ্য পদার্থা থাকে, তবে অগ্নিকান্ডে সতর্কীকরণ এলার্ম পদ্ধতি ব্যবহার করম্নন, যা অনেক ড়্গেত্রেই প্রাণহানি কমাবে।

স্যার ইয়ান বোথামের একটি কাল্পনিক সাড়্গাৎকার

ক্রিকেট পাগল প্রায় সব মানুষেই ইয়ান বোথামকে চেনেন। যেমন- মেজাজি, তেমনি তুখোড় খেলোয়াড়। তিনি এক সময় ইংল্যান্ডের টেষ্ট দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার চেয়ে বড় কথা আজ পর্যনত্ম ক্রিকেট ইতিহাসে তিনি অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। টেষ্ট ক্রিকেটে তার রয়েছে ১৪টি শতক এবং একই সাথে ৩৮৩টি ইউকেট। আজকের সাড়্গাৎকারটিপ মূলত অ্যাজমা এবং ক্রিকেটের উপর এর প্রভাব নিয়ে। আপনারা হয়ত জেনে থাকবেন বোথাম এমন একজন জনপ্রিয় মানুষ, যিনি অ্যাজমাকে জয় করে, ক্রিকেটের অনেক সাফল্যই নিজ ঝুলিতে ভরেছেন।
লেখক ঃ আপনি কি অ্যাজমাকে কখনও ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বাধা হিসেবে গণ্য করেছেন ?
বোথাম ঃ কখনই না। কারও যদি অ্যাজমা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ থাকে, চাইলে সে বিশ্ব জয় করতে পারে। আপনি ডেভিড বেকহেমকেই (ইংল্যান্ড ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক) দেখেন, অ্যাজমাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, কিভাবে ফুটবলের মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছে।
লেখক ঃ কখন আপনি বুঝতে পারলেন, যে আপনি অ্যাজমায় আক্রানত্ম হয়েছেন ?
বোথাম ঃ আসলে অ্যাজমা আগে আমার ধারণা ছিলনা। আমি লড়্গ্য করলাম ১০/১৫ মিনিট খেলার পর, বুকে চাপ অনুভব করছি, শ্বাস কষ্ট হচ্ছে, হঠাৎ করে কাশি শুরম্ন হল এবং আমি খুবই দুর্বলতা অনুভব করছি। এ রকম কয়েকবার হবার পর আমি একজন চিকিৎসকের শরনাপন্ন হলাম, তখনই ধরা পড়ল আমি অ্যাজমাতে আক্রানত্ম।
লেখক ঃ কোন সময় আপনি অ্যাজমায় বেশি আক্রানত্ম হতেন ?
বোথাম ঃ যখন খেলাটা ঠা-া বাতাসে হত এবং সে সময় যদি আমি মুখ দিয়ে ঘনঘন শ্বাস নিই, তা হলে প্রায় অবসম্ভাবি ছিল যে, আমার একটা অ্যাজমা এ্যাটাক হতে যাচ্ছে অথবা ইংল্যান্ড যে সময়টা বাতাসে ফুলের ভাসমান পরাগ রেনু বেশী থাকে। ধরম্নন বসনত্মকাল, সে সময়টা আমি সমস্যায় পড়ে যেতাম।
লেখক ঃ আপনি নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার করেন, বিষয়টা কি নিরাপদ এবং কার্যকরী মনে হচ্ছে ?
বোথাম ঃ প্রথম প্রথম কিছুটা সমস্যা হত, পরবর্তীতে ইনহেলার নেয়ার পদ্ধতি ভালভাবে রপ্ত করতে পেরেছি। আসলে এটাই সবচেয়ে কার্যকরী এবং নিরাপদ ওষুধ।
লেখক ঃ মাঠে অ্যাজমা দ্বারা যাতে আক্রানত্ম না হন সে জন্য কি কি সাবধানতা করেন ?
বোথাম ঃ খেলা শুরর আগে, গা গরমের জন্য হালকা ব্যায়াম করে নিই। খেলা শুরম্নর আগে আগে ইনহেলার ব্যবহার করি। শ্বাস প্রশ্বাস মুখ দিয়ে না নিয়ে সব সময় নাক দিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। খেলার ফাঁকে ফাঁকে প্রয়োজনে ইনহেলার ব্যবহার করি। খেলার শেষে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিই।
লেখক ঃ যে সব শিশু অ্যাজমাতে আক্রানত্ম কিন্তু আপনার মত নামকরা ক্রিকেটার হতে চায়, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি ?

বোথাম ঃ নিজের অ্যাজমাকে ভালভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখ, এরপর ক্রিকেট ব্যাট হাতে নেমে যাও মাঠে।
লেখক ঃ আপনাকে ধন্যবাদ।
বোথাম ঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

যড়্গা রোগের লড়্গণ


বাংলাদেশে এখনও যড়্গায় আক্রানত্ম রোগীর সংখ্যার দিক দিয়ে অন্যতম ভারাক্রানত্ম দেশ। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ। এই রোগটি যেহেতু একটি সংক্রমণ ব্যাধি, তাই রোগটির লড়্গণ জেনে দ্রম্নত চিকিৎসা শুরম্নর মাধ্যমে রোগটির বিসত্মার রোধ করার সাথে সাথে অনেক মৃত্যু ও জটিলতা ঠেকানো সম্ভব। যড়্গা এমন একটি রোগ যা শরীরের যে কোন অংশে হতে পারে, তাবে সবচেয়ে আক্রানত্ম হয়ে থাকে মানুষের ফুসফুস। তাই এই সংক্রানত্ম লড়্গণগুলি আলোচিত হল।
1. রোগী দীর্ঘস্থায়ি কাশিতে ভুগতে থাকে। বলা হয়ে থাকে কাশি তিন সপ্তাহের বেশী স্থায়ি হলে, রোগীর উচিত তার যড়্গা হল কিনা তা জানার চেষ্টা কর। তবে ফুসফুসের আরো অনেক রোগের কারণে এমন দীর্ঘস্থায়ী কাশি হতে পারে।
2. রোগীর সন্ধ্যায় জ্বর আসে। তবে জ্বর সাধারণত মাত্রার হয়ে থাকে। এই জ্বর সাধারণত কাশির মতই দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে।
3. রোগীর খাবারের রম্নচি কমতে থাকে। সাথে সাথে রোগীর ওজনও কমতে থাকে।
4. কাশির সাথে কফ বের হয়। এই কফের সাথে প্রায়ই রক্ত মিশ্রিত থাকে।
5. রোগীরা প্রায়ই অভিযোগ করে তাদের শরীর রাতে প্রায়ই ঘামে ভিজে যায়।
উপরোলিস্নখিত লড়্গণগুলির মধ্যে একাধিক লড়্গণ বিদ্যমান থাকলে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

ইনহেলার নেওয়ার পদ্ধতি


বিভিন্ন রোগ যেমন অ্যাজমা, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসরোধক রোগ (COPD ) প্রভৃতি প্রধান ঔষধগুলি আমরা ইনহেলারের মাধ্যমে শ্বাসের সাথে বুকের মধ্যে টেনে নিই। ইনহেলার টানতে যেয়ে আমাদের অনেক সম্মানিত রোগী, ইনহেলার থেকে বের হওয়া ঔষধ খেয়ে ফেলেন, মুখে জমিয়ে রাখেন কিংবা নাক মুখ দিয়ে ঔষধ বের করে দেন, ফলে ঔষধগুলি অনেক ড়্গেত্রে কোন কাজেই আসে না।
মনে রাখতে হবে ঔষধ আমার ফুসফুসের জন্য, সুতরাং ইনহেলারের ঔষধ শ্বাসের সাথে বুকে টেনে নিতে হবে। ইনহেলার সার্বিকভাবে নেয়ার জন্য নীচের ৬টি ধাপ ক্রম অনুসারে খেয়াল করম্নন।
1. ইনহেলারটি হাতের বুড়া আগুল এবং তর্জনীর মধ্যে ছবির মত করে ধরম্নন এবং ৫ বার ভাড়াভাবে উপর নীচে ঝাঁকিয়ে নিন।
2. এর পর ইনহেলারের মুখ লাগানোর অংশের খাপটি খুলে নিই।
3. ইনহেলার মুখে লাগানোর আগে, পরিপূর্ণভাবে শ্বাস ফেলে ফুসফুস খালি করি।
4. এবার ইনহেলারটির মুখ লাগানোর অংশটি দুই ঠোট দিয়ে চেপে ধরি।
5. এর পর ইনহেলারের চাপ দেয়ার অংশে, তর্জনী দিয়ে চাপ দিই এবং চাপ দেয়অর সাথে সাথে বের হওয়া ঔষধ একই সাথে শ্বাসের সাথে বুকের গভীরে টেনে নিই।
6. টেনে নেয়া ঔষধ বুকে দশ সেকেন্ড আটকে রাখি। প্রয়োজনে ২ মিনিট পর দ্বিতীয় চাপের ঔষধ একইভাবে টেনে নিই। ইনহেলরে যদি স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ থাকে তবে ব্যবহারের পর ভালভাবে গড়গড়া করে কুলি করতে হবে।

সি.ও.পি.ডি (দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসরোধক রোগ) এর লড়্গণ

ছবিটি একজন খুবই মারাত্মকভাবে আক্রানত্ম সি.ও.পি.ডি রোগীর। এই রোগীর প্রয়োজন হয় সময় ধরে অক্সিজেন। রোগীদের মাংসেপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। রোগী সামান্যতম নিজের ব্যক্তিগত কাজ করতে যেয়ে শ্বাস কষ্টে আক্রানত্ম হয়। এক সময় হৃৎপি- তার কর্ম ড়্গমতা হারায়।

পরীড়্গার জন্য কফ দেয়ার সঠিক পদ্ধতি

যড়্গা রোগের জীবাণু দেখার জন্য কফ পরীড়্গা করতে দেয়া হয়। এর জন্য মুখের লালা দিলে কোন লাভ হবে না। কফ বের করার পদ্ধতি দেখুন। কফ দেয়ার আগে ভাল মত কুলি করে নিন। খালি পেটে কফ দেয়া ভাল।

ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে দাঁতের যত্ম নিন


আপনি হয়ত জানেন প্রধান শ্বাসণালী (trachea) এবং খাদ্যণালীর প্রধঅন ছিদ্রপথ খুব কাছাকাছি মুখ গহ্বরের পিছন দিকে অবস্থিত। সুতরাং মুখের লালা, খাদ্যকণা, জীবাণু, সময় সময় নকল দাঁত অথবা মুখের যে কোন ময়লা শুধু পেটে না প্রধান শ্বাসণালী দিয়ে চলে যেতে পারে ফুসফুসে। এই দ্রব্যগুলি ফুসফুসে যেতে বাধা দেয় দুই পাহারাদার যথা- এপিগস্নটিস (epiglotis)Ges ভোকাল কর্ড (vocal cord)| কিন্তু এরপরও মুখের তরল দ্রবীভূত কিছু অংশ চুইয়ে চুইয়ে চলে যায় ফুসফুসে। এটি বেশী ঘটে ঘুমের মধ্যে। আর খুব বেশী ঘটে কেউ যদি অজ্ঞান অবস্থায় থাকে অথবা কেউ যদি স্ট্রোকে আক্রানত্ম চুইয়ে চুইয়ে চলে যায় ফুসফুসে। এটি বেশী ঘটে ঘুমের মধ্যে। আর খুব বেশী ঘটে কেউ যদি অজ্ঞান অবস্থায় থাকে অথবা কেউ যদি স্ট্রোকে আক্রানত্ম হয় কিংবা কারো যদি খাদ্যণালীতে সমস্যা থাকে প্রভৃতি। মুখ গহ্বরে যদি ঘা থাকে, দাঁতের মারীতে যদি ইনফেকশন থাকে তবে লালাতে জীবাণুর পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়, এই অতিরিক্ত জীবাণু মিশ্রত লালা ফুসফুসে পৌঁছালে হতে পারে নিউমোনিয়া (pneumonia) অথবা ফোঁড়া (lung abscess)| তাই দাঁতের যত্ন নিলে আপনার ফুসফুসও ভালও থাকবে।

শ্বাস কষ্টের নানা কারণ


একজন রোগী, রোগের যে সব লড়্গণ নিয়ে আসে, তার মধ্যে শ্বাস কষ্টে ভোগা তাকে সবচেয়ে বেশী বিচলিত করে। আমাদের শরীরের প্রধানতম দুটি অঙ্গ যথা ফুসফুস বা হৃৎপি- আক্রানত্ম হলে মানুষ সবচেয়ে বেশি শ্বাসকষ্টে ভুগে থাকে। তবে এর বাইরে আরো অনেক কারণে রোগীরা শ্বাসকষ্টে ভুগে থাকে।
কোন রোগী শ্বাস কষ্টে ভুগতে থাকলে চিকিৎসকরা কয়েকটি জিনিস জানার চেষ্টা করেন। যেমন-
1. শ্বাস কষ্ট হঠাৎ করে শুরম্ন হয়েছে কিনা ? যেমন- হার্ট ফেউলিয়র (অর্থাৎ হৃৎপি-ের পরিমাণ মত কাজ করার অড়্গমতা), নিউমোনিয়া, ফুসফুসের বড় শ্বাসণালীগুলিতে হঠাৎ বাইরের কোন বস্তু ঢুকে যাওয়া, ফুসফুস হঠাৎ করে ফেটে যাওয়া প্রভৃতি।
2. শ্বাস কষ্ট অনেক দিন ধরে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে কিনা ? যেমন- সি.ও.পি.ডি (দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসরোধক রোগ), আই.এল.ডি (ফুসফুসের গঠণগত তন্তুর রোগ) প্রভৃতি।
3. পরিশ্রম করলে, যেমন- সিঁড়ি বেয়ে উটরে উঠলে শ্বাস কষ্ট বেড়ে যায় কিনা ? এরকমটি হয়ে থাকে যেমন- সি.ও.পি.ডি, আই.এল.ডি, রক্ত শূন্যতা কিংবা ফুসফুসের রক্তণালীর উচ্চ রক্তচাপ (পালমোনারী হাইপারটেনশন) প্রভৃতি।
4. শোয়া অবস্থায় শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় কিনা ? অনেক ড়্গেত্রে অ্যাজমা অ্যাটাক হলে বা সি.ও.পিডি রোগটি বেড়ে গেলে রোগী শুতে পারে না। তবে বিষয়টি সবচেয়ে বেশী চোখে পড়ে রোগী যদি হার্ট ফেউলুরে ভুগে।
5. চিকিৎসক আরো খেয়াল করেন, শ্বাস কষ্টের সাথে রোগী আর কোন সমস্যঅয় ভুগছেন কিনা ? যেমন-
(ক) শ্বাস কষ্টের সাথে কাশি, বুকে চাপ অনুভূত হওয়ার সাথে বুকে শব্দ হওয়া এ রকমটি হলে মনে করতে হবে রোগীটি হয়ত অ্যাজমা বা সি.ও.পি.ডি’তে ভুগছেন।
(খ) শ্বাস কষ্টের সাথে বুকে ব্যাথা থাকলে চিকিৎসকরা ভাবতে পারেন ফুসফুস ফেরে গেল কিনা ? ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রানত্ম কিনা ? তার বড় কোন ধরনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কি না ? ফুসফুসের কোন বড় রক্তণালী জমাট রক্ত দিয়ে বন্ধ হয়ে গেল কিনা ?
(গ) শ্বাস কষ্টের সাথে জ্বর থাকলে মনে করতে হবে তার নিউমোনিয়া বা যড়্গা হল কিনা ?
6. শ্বাস কষ্টের সাথে শ্বাস নেয়ার সময় ঘড় ঘড় বা শো শো শব্দ হলে মনে করতে হবে ফুসফুসের বড় বড় শ্বাসণালীতে কোন টিউমার বা শরীরৈর বাইরের কোন বস্তু যেমন- ফলের বীচি, খাবারের অংশ ঢুকে গেছে কিনা?
7. হার্ট এবং ফুসফুস ছাড়াও আরো অনেক শারিরীক কারণে শ্বাস কষ্ট বা রোগী ঘন ঘন শ্বাস নিতে পারে। যেমন- অতিরিক্ত রক্ত শূন্যতা, কিডনী ফেইলিয়র, ডায়বেটিসের জটিলতা (ডায়বেটিক কিটো এসিডোসিস), মাংস পেশীর দুর্বলতা (মায়োপাথ্যিা) ইত্যাদি।

অ্যাজমাকে উস্কে দেয়া বস্তুগুলি পরিহার করম্নন


অ্যাজমা ট্রিগার অর্থাৎ যে জিনিস গুলি অ্যাজমা বাড়িয়ে দেয়। এই অ্যাজমা ট্রিগার এক একজনের ড়্গেত্রে এক এক রকম। আবার একজনের একাধিক ট্রিগার বা উত্তেজক বস্তু থাকতে পারে।
আপনার বাসায় যদি তেলাপোকার উৎপাত থাকে তবে তা আপনার অ্যাজমা না কমার কারণ হতে পারে। আর তেলাপোকা সেখানেই বশেী থাকে, যেখানে খাদ্য কণা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। তাই আপনার রান্না ঘর এবং খাবারের ঘর পরিষ্কার রাখার উপর, অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করতে পারে।
অনেক ড়্গেত্রে ঘরে ব্যবহৃত পোকা মাকড় মারার স্প্রে কিংবা নিজ দেহে ব্যবহৃদ সুগন্ধি আপনার অ্যাজমা বেড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে। তাই প্রয়োজনে এদের ব্যবহার আপনাকে পরিহার করতে হতে পারে।
তাপমাত্রার তারতশ্যে কারো কারো অ্যাজমা বেড়ে যায। বলা হয়ে থাকে, তাপমাত্রার ওঠা নামা যদি তিনি ডিগ্রীর সেলসিয়াসের বেশি হয়, অ্যাজমা বেড়ে যেতে পারে। ধনরম্ন আপনার অফিস বা গৃহ শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত, কিন্তু বাইরে প্রচন্ড গরম, এই তারতম্য অ্যাজমা রোগীদের জন্য ভাল নয়। তাই আপনার শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াতের উপর রাখুন। সরাসরি ঠা-া বাতাসের সংস্পর্শে কারো কারো অ্যাজমা বেড়ে যায়। তাই সরাসরি ঠা-া বাতাস গায়ে লাগানো পরিহার করম্নন।
বাতাসে ভেড়ে বেড়নো ছত্রাকের স্পোর, শ্বাসের সাথে ফুসফুসে ঢুকে গেলে অ্যাজমা বেড়ে যেতে পারে। গম এবং স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল এবং মেঝে পরিহার করম্নন। শুনে অবাক হবেন, বিদ্যুৎ চমকালেও কারো কারো অ্যাজমা বেড়ে যায়। বিদ্যুৎ চমকানোর শব্দে ছত্রাকের বীজ ভেঙ্গে, স্পোর গুলি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
অধিকাংশ অ্যাজমার রোগী অভিযোগ করেন ধূলা বালির মধ্যে গেলেই তাদের শ্বাস কষ্ট হয়। এই ধূলা বালি শুধু বাইরের না বরং ঘর বাড়িতে জমে থাকা ধুলা আপনাকে আরো বেশি অপদস্থ করবে। এছাড়াও এই ধুলাবালিতে জমে থাকে মাইট নামক পোকা, যা অধিকাংশ অ্যাজমা রোগীর অ্যাজমা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য দায়ি। তাই ঘর বাড়রি সাজ শয্যায় সাধারণ হওয়ার ভাল। ধুলা বালি কম আটকায় এরকম জিনিস পত্র বাড়িতে কম রাখুন যেমন- কার্পেট, জানালার ভারী পর্দা, সোফাসেটের নক্সাদার খবার, লোমশ উলের পুতুল (টিডি বেয়অর) প্রভৃতি। বাজারে মাইট গ্রম্নফ বালিশ পাওয়া যায়, সেটিও প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘর ঝাড়ু নি দিয়ে মুছে ফেলা ভাল। শীতের শুরম্নতে উলের গরম কাপড়, লেপ বের করতে হলে অন্যদের সাহায্য নিন। কারণ এগুলির মধ্যে প্রচুর ধুলা মাইট পোকা জমে থাকে। কাপড় ঘরের খেলা জায়গায় বা আলনায় না রেখে আলমারিতে রাখুন। এত গেল ঘরের ভিতর ধুলা কমানোর বিভিন্ন উপায় বাইরে গেলে নাক মুখে মাক্স পড়ুন। সিটি কর্পোরেশনের পড়্গ থেকে ধুলা কমানোর জন্য পানিতে ছিটাতে পারে, উন্নয়ন কাজ দ্রম্নত শেষ করতে পারে। অ্যাজমা রোগীরা ধুলা প্রবণ এলাকায় গাড়ির কাঁচ বন্ধ করে চলাচল করতে পারে। বাইরে থেকে ফিরে ভালভাবে হাত মুখ ধুয়ে নিতে পারে, যাতে শরীরে ধুলা বালি আটকে না থাকে।

আপনি যদি ধুমপানি হয়ে থাকেন, অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে অবশ্যই ধুমপান পরিহার করতে হবে। আজকাল মানুষ বিভিন্নভাবে ধূমপান করে থাকে যেমন- সিগারেট, বিড়ি হু্‌ক্কা, সীসা প্রভৃতি। পরোড়্গ ধূমপান অর্থা’ অন্যের সিগারেটের ধোঁয়া, আপনার শ্বাস কষ্ট বাড়িতে দিতে পারে। তাই কাছাকাছি থাকে এমন বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয় ধূমপান নিরম্নৎসাহিত করম্নন।
যে কোন ঝাঁঝাল গন্ধ আপনার অ্যাজমা বাড়িতে দিতে পারে। ঝাঁঝাল গন্ধের উৎস হতে পার রাসায়নিক পদার্থ, ময়লার ভাগাড় এমনকি শরীরে ব্যভহৃত সুগন্ধি।
বায়ু দূষণ অ্যাজমা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। দ্রম্নত নগরায়ণের ফলে এই সমস্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশে ঘরে বাইরে বায়ু দুষণ প্রকট। ঘরের বায়ু দুষণ হয় মূলত রান্না ঘরের চুলা থাকে। চুলার ধোঁয়া রান্নাঘর থেকে সহজে বে হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যারা ব্যাসত্ম রাসত্মার পাশে বসবাস করে তাদের অ্যাজমার বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি।
অ্যাজমার বেড়ে যাওয়া আপনার মানসিক অবস্থার উপরও নির্ভর করে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে কিংবনা ক্রোধে আপনার অ্যাজমার বেড়ে যেতে পারে। এমনকি কেউ যদি অট্টহাসিতে ফেতে পড়ে তা হলেও অ্যাজমা বেড়ে যেতে পারে।
আপনার যদি অ্যাজমা থাকে তাহলে ঘরের মধ্যে কোন পশু পাখি পালন না করাই ভাল।
কারো কারো ড়্গেত্রে শরীর চর্চা বা কায়িক পরিশ্রমে অ্যাজমা বেড়ে যায়। অনেক সময় অ্যাজমায় আক্রানত্ম বাচ্চারা, এই কারণে খেলতে অনীহা প্রকাশ করে। তবে সুনিয়ন্ত্রিত অ্যাজমা নিয়ে অনেকেই আজকে নাম করা খেলোয়াড়।
কারো কারো ড়্গেত্রে ফুলের রেণুতে অ্যাজমা বেড়ে যায়। তাই অনেক ড়্গেত্রে বসনত্মকালে অনেকেরই অ্যাজমা বেড়ে যায়। বাগান থেকে ফিরে এসে এই ধরনের ব্যাক্তিদের ভালভাবে নাক মুখ পরিষ্কার করা উচিত।
কিছু কিছু ঔষধ আপনার অ্যাজমা বাড়িতে দিতে পারে যেমন- প্রেসারের ঔষধ, ব্যাথার ঔষধ প্রভৃতি। তাই চিকিৎসকের কাছে গেলে, আপনার অ্যাজমার কথা তাকে জানান।
কিছু কিছু ড়্গেত্রে কোন কোন খাবারে কারো কারো অ্যাজমা বেড়ে যায়। তবে আমাদের দেশে এই প্রবণতা কিছুটা কম। সম্ভাব্য খাবার গুলি হল চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ, বেগুন, বাদাম কিংবা খাবরে ব্যবহৃত প্রিজারবেটিভ ইত্যাদি। তবে অ্যাজমা হলেই যে সব খাবার গণহারে বাদ দিবেন, তার কোন মানে হয় না।

অ্যাজমাতে শ্বাসণালীর পরিবর্তন


আপনার যদি অ্যাজমা থাকে, তাহলে নীচের ছবিটি আপনার জন্য গুরম্নত্বপূর্ণ। হাতের বাঁয়ে যে ছবিটি আছে, তা একটি শ্বাসণালীর ছবি, যখন আপনার অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তখন আপনার শ্বাসণালীও এরকম প্রসারিত থাকে, যার ফলে তখন কোন শ্বাস কষ্ট থাকে না। আর দ্বিতীয় ছবিটি অ্যাজমার অ্যাটাক সংঘটিত হওয়ার পর, আক্রানত্ম শ্বাসণালীর ছবি। লড়্গ করম্নন, শ্বাসণালী সংকুচিত হয়ে ভিতরে ফাঁকা অংশ কমে গেছে, এর ফলে আক্রানত্ম ব্যক্তির শ্বাস কষ্ট হয়, কাশি হয়, বুকের মধ্যে শো শো শব্দ হতে থাকে এবং রোগী বুকে চাপ অনুভব করতে থাকে।

 

 

যড়্গার ঔষধে কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে ?

অধিকাংশ রোগী কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই, যড়্গা রোগের ঔষধের কোর্স সম্পন্ন করেন। কিছু ড়্গেত্রে মাত্রার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তবে বড় ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্যিযা একে বারেই বিরল।
ঔষধ শুরম্ন করার পর রোগীর যে কারণে সবচেয়ে বেশি চিনিত্মত হয়ে পড়েন তা হল প্রসাবের রং কমলা বা লাল হওয়া। কিন্তু ব্যাপারটা একদমই weK, মূলত প্রসাব ঔষধের রং ধারণ করে। শধু প্রসাব কেন ? শরীরের ঘাম এমনকি অনেক ড়্গেত্রে চোখের পানির রং কমলা হয়ে যেতে পারে। প্রসাবের রং বিকালের পর পরিষ্কার হয়ে যায়।
কারো কারো ড়্গেত্রে ড়্গুধা মন্দা, খাবারের অরম্নচি কিংবা কখনও কখনও পেট ব্যাথা করতে পারে, সে ড়্গেত্রে খাবারের আগে খালি পেটে ঔষধ না খেয়ে, খাবারের সাথে অথবা খাবারের পর ঔষধ খেলে ভাল হয়।
শরীর বিভিন্ন গিড়ায় (অস্থি সন্ধি) গুটি কয়েক রোগীর ব্যাথা হগতে পারে। চিকিৎসকের পরমার্ম মত হালকা কিছু ঔষধ খেলেই এই সমস্যার সমাধান হয়।
কখন কখনও কারো কারো কারো পায়ে জ্বালা করতে পাড়ে, কখনও বা হতে পারে হালকা চুলকানি এর সাথে দেখা দিতে পারে চামড়ায় অ্যালার্জি জনিত সমস্যা, এতে দুঃচিনত্মার কিছু নেই, আপনার বাড়ির কাছের চিকিৎসকই এর সমাধান দিতে পারবে। তবে চামড়ার সমস্যা যদি বেশি পরিমাণে দেখা দেয় এবং কোন কোন ড়্গেত্রে যদি মুখ গহ্বরে ড়্গত দেখা দেয়া, তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
ক্যাটাগরি দুইতে ইনজেকশন নেয়ার সময়, আপনি খেয়াল করম্নন আপনি কানে কম শুনেছেন কিনা অথবা আপনার মাথা ঘুরছে কিনা, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ঔষধ গ্রহণকালীন সময় যদি আপনার চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায় এবং এর সাথে খাবারের অরম্নচি, বমি বমি ভাব প্রভৃতি দেখা দেয়, তাহলে মনে করতে হবে হয়ত আপনার জন্ডিস দেখা দিয়েছে (লিভার/যকৃত আক্রানত্ম হওয়া), আপনি দ্রম্নত আপনার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

 

নমনীয় ব্রঙ্কোসকপি করার প্রক্রিয়া

আপনার চিকিৎসক, যদি আপনাকে ব্রঙ্কোসকপি করতে বলে, তবে ঘাবড়ে যাবেন না, কারণ এটি একটি নিরাপদ পরীড়্গা। পরীড়্গাকালীন সময় কি করা হচ্ছে আপনি তা বুঝতে পারবেন এবং মনিটরের পর্দায় দেখওত পারবেন। পরীড়্গার সময় রোগীকে অজ্ঞান করা হয় না বরং প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে লোকাল এনেস্থেশিয়া ব্যবহার করা হয়, সেই কারণে পরীড়্গাটি ভালভাবে সমাপ্ত করতে আপনার সহযোগিতা একানত্ম জরম্নরী।
 ব্রঙ্কোসকপি মেশিনটি সরম্ন এবং নমনীয়, সাধারণত যন্ত্রটি নাক দিয়ে প্রবেশ করানো হয়। পরীড়্গাটি শুরম্ন হওয়ার আগে আপনার চিকিৎসককে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি দিয়ে সহযোগিতা করম্নন :-
1. আপনার অ্যাজমা, সিওপিডি অথবা অন্য যে কোন ধরনের শ্বাস কষ্টের সমস্যা আছে কিনা ?
2. আপনি কোন প্রকার হৃদরোগে ভুগছেন কিনা ?
3. কোথাও কেটে গেলে, রক্তড়্গরণের প্রবনতা রয়েছে কিনা ?
4. আপনার নাক কোন কারনে বন্ধ আছে কিনা ? ইত্যাদি।

 ব্রঙ্কোসকপি করার আগে নিম্নলিখিত প্রস্তুতি থাকা জরম্নরী :-
1. ব্রঙ্কোসকপি করার পূর্বে চার ঘন্টা খালি পেটে থাকবেন এবং পরীড়্গা শেষে আরো দুই ঘন্টা কিছু খাওয়া যাবেনা।
2. Aspirin বা Clopidogrel জাতীয় ঔষধ খেয়ে থাকলে, তা পরীড়্গার পাঁচ দিন আগে বন্ধ রাখলে ভাল।
3. আপনার নাকে কোন নাকফুল অথবা মুখে কোন আলগা দাঁত থাকলে তা খুলে আসবেন।
4. পরীড়্গার সময় বুকের X-ray, ECG, CT-Scan এবং কফ পরীড়্গার রির্পোট নিয়ে আসবেন।


হাঁচিাশির সময় নাক-মুখ ঢাকুন

 

 

 

 

ফুসফুসের ফোঁড়া বুকে জমে থাকা পুঁজ

79874+6156.jpg

আমরা শরীরের উপরি ভাগে বিশেষ করে চামড়ার বিভিন্ন অংশে ফোঁড়া হতে দেখি, যেমন- থাকে টনটনে ব্যাথা তেমনি থাকে কাঁপুনিসহ বুকে ফোঁড়া হলে কিংবা পুঁজ জমলে অনেকটা এই ধরণের লড়্গণের প্রকাশ পায়।

ফুসফুসে ফোড়া হলে লড়্গণগুলি নিম্নরূপ :

      1.            উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর (>103 ডিগ্রী ফারেনহাইট) হয়। জ্বর শীত করে কেঁপে কেঁপে আসে।

      2.            কাশি হয়ে থাকে, কাশির সাথে প্রচুর কফ বের হতে থাকে। কফ হয়ে থাকে ঘন, হলুদ এবং দূর্গন্ধযুক্ত। মাঝে মাঝে কফের সাথে রক্ত আসতে পারে।

      3.            রোগীকে দেখতে খুবই অসুস্থ দুর্বল মনে হয়।

বিভিন্ন কারণে বুকে ফোঁড়া হতে পারে যেমন :-

1.      নিউমোনিয়ার চিকিৎসা সময় মত করা না হলে।

2.      মুখের জীবাণু যুক্ত লালা শ্বাসণালীতে চলে েলে

3.      শ্বাসণালীতে বাইরের কোন বস্তু ঢুকে আটকে গেলে।

4.      যারা তাদের শিরায় বিভিন্ন রকম নেশা জাতীয় দ্রব্য নেয়, তাদের ড়্গেত্রে বিভিন্ন জীবাণু, রক্ত দ্বারা বাহিত হয়ে ফুসফুসে যেয়ে ফোঁড়া তৈরি করতে পারে।  

কাদের ফোাঁড়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশী ?

1.      যাদের মুখ গহ্বর, দাঁত দাঁতের মারি রোগাক্রানত্ম কিংবা অপরিষ্কার।

2.      যাদের ডায়বেটিস অনিয়ন্ত্রিত।

3.      যাদরে পূর্ব থেকেই ড়্গতিগ্রসত্ম ফুসফুস রয়েছে, প্রভৃতি।

ফোঁড়া হতে বাঁচার উপায়-

1.      মুখ গহ্বর, দাঁত মাড়ির যত্ম নেয়া।

2.      ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণ রাখা।

3.      যথাযথভাবে এবং দ্রম্নত নিউমোনিয়ার চিকিৎসা নেয়া, প্রভৃতি।

ফুসফুসে ফোঁড়া হলে দীর্ঘদিন নির্ধারিত এন্টিবায়োটিকটি যথাযথ মাত্রায় মাত্রায় সেবন করতে হয়। কিছু কিছু ড়্গেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন হয় যেমন- ফোঁড়া যদি আকারে বড় হয়, ফোঁড়া যদি ফেটে যায় অথবা ফোঁড়া থেকে যদি রক্ত  ড়্গরণ হয়, প্রভৃতি।

 
বুকে পুঁজ জমা : বুকে পুঁজ জমা বলতে বুঝায়, ফুসফুসের চারিদিকে যে আবরণী রয়েছে সেই আবরণীর দুই সত্মরের মধ্যে পুঁজ জমা। সেই ড়্গেত্রে রোগীর মধ্যে নিম্নলিখিত লড়্গণগুলি থাকতে পারে যেমন-

1.      োগীক খুবই অসুস্থ দেখায়।

2.      রোগীর প্রচন্ড জ্বর (উচ্ তাপমাত্রা) আসতে পারে, জ্বর যখন আসে শীত করে এবং কেঁপে কেঁপে আসে।

3.      পুঁজ যে পাশে জমে, সে পাশটা ভার হয়ে থাকে এবং প্রচন্ড ব্যাথা হয় এবং ব্যাথার জন্য পরিপূর্ণভাবে শ্বাস পর্যনত্ম নেয়া যায় না। শ্বাস নিতে গেলে বুকের ব্যাথা বেড়ে যায়। অনেক সময় বুকের যে পাশে পুঁজ জমে, সে পাশে কেউ স্পর্শ করলেও রোগী ব্যাথা পায়।

 

বিভিন্ন কারণে বুকে পুঁজ জমতে পারে, যেমন-

1.      নিউমোনিয়ার জটিলতা হিসেবে।

2.      ফুসফুসের ফোঁড়া ফেটে গেলে।

3.      অন্য কোন কারণে ফুসফুসের পর্দায় জমে থাকা পানিতে সংক্রমণ (ইনফেকশন) হলে, প্রভৃতি।

 

বুকে পুঁজ জমে থাকার প্রধান চিকিৎসায় হল একটি ছোট নল লাগিয়ে দিয়ে পুঁজ বের করে ফেলা এবং যথাযথ এন্টিবায়োটি দেয়া।



শ্বাসণালীতে কোন কিছু ঢুকে গেলে কি করণীয় ?

1-1.jpg

চিত্র :

হঠাৎ করে শ্বাসণালীতে বাইরের কোন বস্তু দূর্ঘটনাবসত ঢুকে যেতে পারে যে কারো। তবে এই ঘটচনার সবচেয়ে বড় শিকার হল স্কুলে যাওয়ার ঠিক আগের বয়সের শিশুরা অর্থাৎ / বৎসর বয়স থেকে শুরম্ন করে এর নীচের বয়সের শিশুরা। এর ফলে বাচ্চারা বিভিন্ন প্রকার শারিরীক ভোগানিত্ম হয় এবং মৃত্যুর ঘটনাও কম নয়।

আমাদের কাছে মা-বাবা যখন বাচ্চাদের নিয়ে আসেন, তখন তারা এই রকম একটি ইতিহাস দেন যে, বাচ্চা পুঁথি বা মার্বেল দিয়ে খেলছিল, হঠাৎ তা মুখে দিয়ে গিলে ফেলে (মূল তা অধিকাংশ ড়্গেত্রে চলে যায় শ্বাসণালীতে) আর তখন থেকেই বাচ্চা ক্রমাগত কাশি, শ্বাসকষ্ট আর বুকে ঘড় ঘড় শব্দ নিয়ে ভুগছে (চিত্ :১২) শ্বাসাণালীতে কোন কিছু ডুকে যাওয়ার বিষয়টি যদি অভিভাবকদের দৃষ্টিগোচন না হয়, তাহলে সময়ের সাথে সাথে বাচ্চাদের ফুসফুস ক্রমাগত ড়্গতিগ্রসত্ম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই পরিস্থিতিতে বাচ্চারা প্রায়ই ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রানত্ম হতে থাকে। অনেক সময় বাচ্চার গলার বসে যায়, ঘন ঘন শ্বাস নিতে থাকে প্রভৃতি।

জাত বড়্গব্যাধি ইনিষ্টিটিউট হাসপাতালে বিভিন্ন সময় নিয়ে আসা বাচ্চাদের, যারা শ্বাসণালীতে বিভিন্ন রকম আটকে থাকা বস্তুসহ ভর্তি হয়েছে, তাদের শ্বাসণালী থেকে নিম্নলিখিত বস্তুগুলো উদ্ধার হয়েছে। যেমন- () বিভিন্ন রকম ফলের বীচি, চিনাবাদাম () আলপিন, সেফটিপিন, ছোট পেড়েক () খেলনার ড়্গুদ্র অংশ  () কলমের বিভিন্ন অংশ  () মার্বেল, পুঁথি প্রভৃতি। আর বড়দের ড়্গেত্রে পাওয়া যায়, নকল দাঁত, মাংসের হাড়, সুপাড়ি ইত্যাদি।

বাইরের বস্তু যেন শ্বাসণালীতে চলে না যায়, সেই ড়্গেত্রে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নেয়া যায় যেমন-

1.      চার বছরের নীচের বাচ্চাদের এমন ছোট খেলনা না দেয়া যেগুলির পুরোটা বা খন্ড বিশেষ মুখের মধ্যে বাচ্চারা ঢুকিয়ে ফেলতে পারে। েমন- ছোট গাড়ি যেটির ছোটর ছোট চাকাও খুলে ফেলা যায়।

2.      এই বয়সের নীচের বাচ্চাদের কিছু ছোট শক্ত খাবার যেমন- শক্ত চকলেট, বাদাম, ফলের বীচি প্রভৃতি না দেয়া।

3.      বাচ্চাদেরকে খাবার ছোট ছোট টুকরো করে দেয়া যাতে খাবার গলায় আটকে না যায়।

4.      খাবার মুখে নিয়ে বাচ্চারা যেন দৌড়া-দৌড়ি বা কথা না বলে।

5.      মার্বেল, সেফটিফিন, কানের দুল, পুুঁথি, ট্যাবলেট প্রভৃতি বাচ্চাদের হাতের নাগালের বাইরে রাখা।

6.      বড়রা অনেক সময় মুখে খাবার নিয়ে কিংবা ঠোট বা দাঁতের ফাঁকে বিভিন্ন জিনিস যেমন ক্লিপ, পেড়েক প্রভৃতি নিয়ে কথা বলে অথবা বিভিন্ন কাজ করে, এই অভ্যাসটি পরিহার করা।

7.      যথাযথ ভাবে নকল দাঁত ব্যবহার করা, যাতে তা শ্বাসণালীতে চলে না যায়।

 

এক বৎসরের উপরে যাদের বয়স, তাদে ড়্গেত্রে বাইরের বস্তু শ্বাসণালীতে আটকে যেয়ে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারি, একই সাথে যেখানে থোরাসিক সার্জনরা (মূল তারাই ব্রোঙ্কোসকপি করি শ্বাসণালীর ভিতর থেকে বাইরের বস্তু বের করেন) কাজ করেন সে ধরনের হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

2-1.jpg

চিত্র : (হেই লিক প্রক্রিয়া)

1.      এই ধরণের রোগীদের শরীরের পিছন দিক দিয়ে দুই ডানার মাঝখানে হাতের তালুর শক্ত অংশ দিয়ে ধাক্কা দিব। তখন কাশির সাথে বস্তুটি শ্বাসণালী থেকে বের হয়ে আসতে পারে। যদি বের না হয়, এই প্রক্রিয়াটি পাঁচবার অনুসরণ করব।

2.      এরপরও রোগীর শ্বাসণালী পরিষ্কার না হলে, আমরা হেইম লিক প্রক্রিয়াটি (চিত্র:) (heimlich maneuver)  অনুসরণ করতে পারি। এই পদ্ধতিত রোগীকে পিছন দিক থেকে জাপটে ধরতে হয় এবং হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নাভীর উপর হাত স্থাপন করে ঊর্ধ্বমুখী চাপ দিতে হয়। সফল না হওয়া পর্যনত্ম প্রক্রিয়াটি কমপড়্গে পাঁচবার অনুসরণ করব।

3.      কোন কারণে শ্বাস বা হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে কৃত্রিম শ্বাস বা কার্ডিয়াক ম্যাসেজ দেয়া লাগতে পারে। 

 

4.jpgএক বৎসর বয়সের নীচের বাচ্চাদের ড়্গেত্রে আমরা নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারি। তবে এই পদ্ধতি শুরম্ন করলৈও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বিলম্ব হওয়া কাম্য নয়।

 

 

 

 

3-1.jpgচিত্র :

 

 

 

 

চিত্র :

1.      বাচ্চাটা যদি অজ্ঞান থাকে তবে তাকে কৃত্রিমভাবে শ্বাস এবং কার্ডিয়াক ম্যাসেজ দিতে হবে।

2.      বাচ্চার যদি জ্ঞান থাকে কিন্তু বাইরের বস্তু শ্বাসণালীতে ঢুকে যাওয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট হতে থাকে, তাহলে বাচ্চাটিকে উপর করে (চিত্ : ) আপনার একটি বাহুর উপর নিন। বাচ্চাটির ভর সামলানোর জন্য হাতসহ বাচ্চাটিকে সেই পাশের উরম্নর উপর রাখতে পারেন। অপর অব্যবহৃত হাত দিয়ে বাচ্চার দুই ডানার মাঝখানে চাপড় দিই (চিত্ : ) এভাবে পাঁচবার চাপড় দেয়ার পর বাচ্চার মুখ পরীড়্গা করে দেখুন, বস্তুটি শ্বাসণালী থেকে বের হয়ে মুখে চলে এসেছে কিনা, তাহলে আঙ্গুল দিয়ে বস্তুটি বের করে নিয়ে আসেন।

3.      এরপরও বস্তুটি বের হয়ে না আসলে বাচ্চাটিকে চিৎ করে শুইয়ে বুকের মাঝখানের হাড়ের উপর পাঁচবার চাপ দিই (চিত্ : ) এবং খেয়াল করি শ্বাসণালীতে ঢুকে যাওয়া বস্তুটি মুখে চলে এসেছে কিনা ?  

4.      শ্বাসণালী থেকে বস্তুটি বের না হওয়া পর্যনত্ম একবার উপর করে রেকবা চিৎ করে বারবার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করি এবং একই সাথে নির্দিষ্ট হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা নিতে থাকি।

যড়্গা প্রতিরোধের উপায়

35863.jpg

বিশ্বে যতগুলি যড়্গা প্রবণ দেশ রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। অথচ অনেক ড়্গেত্রেই এই রোগটি প্রতিরোধ যোগ্য।

1.      যড়্গা প্রতিরোধের সাথে ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা জরম্নরী যেমন- যেখানে সেখানে থুথু না ফেলা, হাঁচি কাশির সময় নাক মুখ ঢাকা।

2.      জন্মের পরপরই যড়্গা প্রতিরোধি বি.সি.ি টীকা নিয়ে নেয়া। এই টীকা মোটামুটি সাত বৎসর বয়স পর্যনত্ম ফুসফুস ফুসফুস বহির্ভূত যড়্গার বিরম্নদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি যোগায়। আমরা ভাগ্যবান এই জন্য যে এই টীকাটি আমাদের সার্বজনিন টীকা দান কর্মসূচীর মধ্যে অনত্মর্গত র্থা বাচ্চা বয়স সব টীকা দেয়া হলে থাকলে আমরা ধরে নিব তার বিসিজি টীকাটিও দেয়া হয়ে গেছে।

3.      সুশৃঙ্খল জীবন যাপন, সুষম খাবার এবং পরিবেশে বসবাস যড়্গা প্রতিরোধের জন্য গুরম্নত্বপূর্ণ। একত্রে গাদাগাদি করে বসবাস যড়্গার বিসত্মার বাড়ায়। ঠিক একইভাবে পুষ্টিহীনতা যড়্গা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

4.      ধূমপান, মদ্যপান কিংবা অন্য যে কোন নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করলে যড়্গা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

5.      ডায়বেটিস থাকলে তা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করম্নন। অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিসে যড়্গা হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

6.      কফে যড়্গার জীবণু আছে, এরূপ রোগীকে যড়্গার ঔষধ সঠিকভাবে গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা। কারণ তাদের মাধ্যমে মুলত রোগটি থাকে।  



 


 

ফুসফুস চুপসে যাওয়ার ার

 

66666.jpg

ফুসফুসকে তুলনা করা হয় বেলুনের সাথে। শ্বাসের সাথে বাতাস ঢুকলে এটি বুক জুড়ে ফুলে উঠে আর প্রশ্বাসের সাথে কিছুটা বাতাস বেরিয়ে গেলে এটি আয়তনের খানিকটা কমে যায়।

1.      শ্বাসণালী বন্ধ হয়ে ফুসফুস চুপসে যাওয়া : বেলুনের মত ফুসফুসেরও একটি মুখ রয়েছে  যেখানে দিয়ে ফুসফুসের ভিতর বাতাস ঢুকে। ফুসফুসের এই মুখে যুক্ত থাকে বৃহৎ আকৃতি শ্বাসণালী। এই শ্বাসণালী দিয়ে বাইরের পরিবেশ বাতাস টেনে নিয়ে আমরা ফুসফুসকে ফুলিয়ে রাখি। শ্বাসণালী কোন কারণে বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের ফুসফুস চুপসে যায়। শ্বাসণালী বন্ধ হয়ে যেতে পারে নানা কারণে। যেমন- এর ভিতর টিউমার হলে, কফ জমে আটকে গেলে, বাইরের কোন বস্তু শ্বাসণালীর ভিতরে যেয়ে আটকে গেলে যেমন- ফলের বীচি, নকল দাঁত প্রভৃতি। আবার শ্বাসণালীর উপর বাইরে থেকে চাপ পড়লে বিশেষ করে কোন টিউমার দিয়ে শ্বাসণালী চেপে গেলে ফুসফুস চুপসে যেতে পারে।

 

2.      ফুসফুসকে বাইরে থেকে চাপ দিয়ে চুপসে দেয়া : বড়্গ গহ্বরে পানি, বাতাস, রক্ত কিংবা পুঁজ জমা হলে তা ফুসফুসকে চারদিক থেকে চেপে ধরে এবং এদের পরিমাণ বেশী হলে বুকের মধ্যে চাপ আরো বেড়ে যায় ফলে ফুসফুস ক্রমাগ চুপসে যেতে থাকে।

 

3.      ড়্গতিগ্রস্থ ফুসফুস কুঁচকে যাওয়ার কারণে ফুসফুসের চুপসে যাওয়া : ফুসফুসে যড়্গা, নিউমোনিয়া কিংবা ফোঁড়া হলে ছোট বড় ড়্গতের সৃষ্টি হয়। এই সব ড়্গত সেরে গেলে তা তন্তু জাতীয় টিস্যু দ্বারা ভরাট হয়, ফলে ফুসফুসের কোন কোন জায়গা কুঁচকিয়ে যায় ফলে এর আশেপাশের কিছু অংশ চুপসে যেতে পারে।

ফুসফুস চুপসে গেলে সাধারণ শ্বাসকষ্ট হয়, অনেক  ড়্গেত্রে বুকে ব্যাথা হতে পারে। এছাড়া  যে সব রোগের কারণে ফুসফুস চুপসে যেয়ে থাকে, অধিকাংশ ড়্গেত্রে সে সব রোগের লড়্গণগুলি প্রকাশ পেয়ে থাকে।  

ফুসফুস দীর্ঘ দিন চুপসে থাকলে সময়ের সাথে সাথে কার্যকারিতাও হারাতে থাকে। কিন্তু or:#1D2129'>সময়ের মধ্যে যদি ফুসফুসের বাইরের পানি, বাতাস কিংবা পানি চাপ অপসারণ যায় অথবা ফুসফুসের শ্বাসণালীর ভিতরের টিউমার অপসারণ করা যায় তাহলে ফুসফুস চুপসে যাওয়া অবস্থা থেকে অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।




আগুনে পোড়া শ্বাসণালী

 

fire.jpg

আগুনে পোড়া শ্বাসণালী যেমন রোগীর কষ্ট এবং যন্ত্রনা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয় তেমনি একইভাবে অনেক ড়্গেত্রে তাঁর চিকিৎসকগণও অসহায় হয়ে পড়েন। আগুনে পোড়া শ্বাসণালীর রোগীর চামড়া পোড়া ড়্গতসহ অথবা অনেক ড়্গেত্রে কোন প্রকার পোড়া ড়্গত ছাড়াও আসতে পারেন। শ্বাসণালী ড়্গতিগ্রস্থ হওয়ার ধরনের রোগী পরবর্তীতে সহজেই নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিলতায় আক্রানত্ম হয়ে থাকেন। আগুনে পোড়া চামড়ার ড়্গেত্রে সহজেই চোখে পড়ে, কিন্তু শ্বাসণালী পুড়ে যাওয়ার লড়্গণগুলি প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা না দিতে পারে, অন ড়্গেত্রে লড়্গণগুলি দেখা দেয় ঘটনার ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টার পর। শরীরে পোড়াড়্গত বেশী জায়গা জুড়ে থাকলে, অনেক ড়্গেত্রেই চিকিৎসকরা আন্দাজ করে নেন, রোগীর শ্বাসণালীও হয়ত পুড়ে গেছে। আগুন লাগলে শ্বাসণালী পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে পাঁচ বৎসরের নীচের বাচ্চাদের এবং পঁচাত্তর বৎসরের অধিক বয়স্কদের।

শ্বাসণালী আগুনে কত ড়্গতিগ্রস্থ হয়েছে তা নির্ভর করে-

§  অগ্নিকান্ড কোন বদ্ধ জায়গা ঘটেছে কিনা ? (যেম কাঁচ দিয়ে ঘেরা শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিতত কড়্গ)

§  অগ্নিকান্ড কোন বদ্ধ জায়গায় ঘটেছে কিনা ?  (যেম কাঁচ দিয়ে ঘেরা শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কড়্গ)

§  কতড়্গণ যাবত ব্যক্তিটি আগুন এবং ধোঁয়ার মধ্যে ছিলেন ?

§  কি ধরনের বস্তু পুড়েছে এবং তা থেকে কি ধরনের ড়্গতিকর ধোঁকা বের হয়েছে ?

§  রোগী আগে থেকে কোন শ্বাসের রোগে ভুগছে কিনা ?

§  কিভাবে আপনাপর শ্বাসণালী আগুনে ড়্গতিগ্রস্থ হতে পারে ?

মূলত তিন পদ্ধতিে শ্বাসণালী ড়্গতিগ্রস্থ হয়-

1.      আগুনে উৎপন্ন তাপ দ্বারা তৈরী ড়্গত।

2.      প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন বিষাক্ত গ্যাস দ্বারা শ্বাস রোধ হওয়া।

3.      ধোঁয়া ফুসফুস এবং শ্বাসণালীর উত্তেজক হিসাবে কাজ করতে পারে।

 

1.      আগুনে উৎপন্ন তাপ দ্বারা তৈরী ড়্গত : তাপের কারণের সাধারণত যে ড়্গত হয় তা মুখ গহ্বর সংলগ্ন শ্বাসের পথ (oropharynx) পর্যনত্ম সীমাবদ্ধ থাকে। তবে এর সাথে বাষ্প এবং বিস্ফোরণ যুক্ত হলে যে যেমন- কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হওয়া। শ্বাসণালীর ড়্গত পৌঁছে যেতে পারে ফুসফুসের গভীরে।

2.      প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন বিষাক্ত গ্যাস দ্বারা শ্বাস রোধ হওয়া : প্রচুর পরিমান ধোঁয়াতে যদি শ্বাস রোধ হয়ে আসে, তাহলে তা আমাদের শরীরের কোষগুলিতে অক্সিজেনের ঘাটতি ঘটায়। অগ্নিকান্ডে স্থলে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়, তার উপর যদি, পোড়া বস্তু থেকে কার্বন মনো-অক্সাই (CO) তৈরি হয়, তবে আমাদের শরীরের কোষগুলিতে অক্সিজেন ঘাটতিে আরো প্রকট হয়। তাছাড়া কার্বন মনো অক্সাই হার্টের পাম্প করার ড়্গমতাও কমিয়ে দেয়। অগ্নিকান্ডের সময় যদি পস্নাষ্টিক (বিভন্ রকম কারখানায় মজুদ থাকে), উল, সিল্ক, নাইলন, রাবার এবং কাগজ জাতীয় পদার্থ (গার্মেন্ট জাতীয় কারখানায় অধিক পরিমাণ থাকে। পুড়ে, তাহলে প্রচুর পরিমাণে সায়ানাইড তৈরি হয়। এই সায়ানাইড কার্বন মনো অক্সাইডের চেয়ে বিশ গুণ বিষয়াক্ত এবং এই পদার্থটি আক্রামনাত্মক ব্যক্তি দম বন্ধ করে দিতে পারে।

 

3.      ধোঁয়ার কারণে শ্বাসণালী উত্তেজিত হলে, তাতে প্রদাহের সৃষ্টি হয় শ্বাসণালী সংকুচিত হয় এবং শ্বাসণালীর কোষগুলি হতে নি:সৃ পদার্থ দ্বারা ছোট ছোট শ্বাসণালীগুলি বন্ধ হয়ে যায়। ছাড়া শ্বাসণালী, ছাই জাতীয় দ্রব্যাদি দ্বারাও অনেক ড়্গেত্রে বন্দ হয়ে যেতে পারে।

 

একজন সাধারণ মানুষ কিভাবে বুঝবেন, আগুনে পোড়া রোগীটির শ্বাসণালী মারাত্মাকভাবে আক্রানত্ম হয়েছে ?

1.      আক্রানত্ম ব্যক্তির গলার ¯^i পরিবর্তিত হয়ে যায়, অনেক ড়্গেত্রে তা কর্কশ ¯^‡i পরিণত হয়।

2.      ব্যক্তি দ্রম্নত শ্বাস নিতে থাকে অর্থাৎ তার শ্বাস কষ্ট হয়।

3.      ব্যক্তির জিহ্বা, হাতের নখ বা শরীরের অন্যান্য অংশ নীল বর্ণ ধারণ করে।

4.      লোকটি ংজ্ঞ হারিয়ে ফেলতে পারে।

5.      তার শ্বাসের সাথে বুকে ক্রমাগত আওয়াজ হতে থাকে।

6.      তার কফের সাথে কালো কালো ছাই জাতীয় পদার্থ আসতে পারে।

 

§  চিকিৎসক প্রাথমিক পর্যায়ে বুকের এক্সরে রিপোর্ট ¯^vfvweK পেলেও খুশী নহ না, অনেক ড়্গেত্রেই শ্বাসণালীর পরিবর্তন গুলি আসে ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টার পর।

§  এছাড়াও চিকিৎসকগণ রোগীর অবস্থা বুঝার জন্য রক্তে বিভিন্ন গ্যাসের পরিমাণ দেখেন, কিডনী ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা বুঝে নেন, হার্টের অবস্থা বুঝার জন্য .সি.ি করে নেন, এছাড়াও শ্বাসণালীর অবস্থা সঠিকভাবে দেখার জন্য অধিকাংশ ড়্গেত্রে ব্রঙ্কোসকপি করে নেন।

একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে শ্বাসণালী পোড়া রোগীকে কিভাবে সাহায্য করতে পারেন ?

1.      যত দ্রম্নত সম্ভব অগ্নিকান্ডের স্থান থেকে রোগীকে অপসারণ করে মুক্ত খোলা স্থানে নিয়ে আসেন।

2.      নাক মুখে ছাই বা কিছু আটকে থাকলে তা অপসারণ করম্নন।

3.     আপনি যদি রোগীর জন্য দ্রম্নত প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে পারেন, তবে নিঃসন্দেহে আপনি চিকিৎসার প্রথম ধাপ পূরণ করেছেন।

4.     G¨v¤^y‡jÝ বহনের সময়ও রোগী যাতে যথেষ্ট অক্সিজেন পায় সেদিক নজর রাখুন।

5.     যে সব হাসপাতালে বার্ণ ইউনিট আছে, সে সব হাসপাতালে সকল রোগীর জন্য সবচেয়ে ভাল চিকিৎসালয়। তবে এর সাথে খেয়াল রাখা উচিত এই সকল চিকিৎসা কেন্দ্রের নিবিড় পর্যবেড়্গণ কেন্দ্র (.সি.ইউ) আছে কিনা? কারণ শতকরা পঞ্চাশ ভাগ শ্বাসনালী পোড়া রোগীর কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাসের যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। এর সাথে এই সব হাসপাতালে বড়্গব্যাধি বিশেষজ্ঞ থাকলে তা হবে সোনায় সাহাগা।

6.     রোগী যদি পূর্বে থেকে অ্যাজমাসহ ফুসফুসের অন্যান্য রোগে ভুগতে থাকেন, তাহলে সংশিস্নষ্ট চিকিৎসককে অবহিত করম্নন।

 

শ্বাসণালী পোড়া কো কোন রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি থাকা উচিৎ ?

যে সকল ব্যক্তির শ্বাসণালী আগুন এবং এর ধোঁয়া দ্বারা আক্রানত্ম হয়েছে, তাদের সবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন নেই, তবে সাধারণ ড়্গেত্রে কম পড়্গে চার থেকে ঘন্টা চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকা ভাল। নিম্ন লিখিত বিষয়গুলি রোগীর মধ্যে উপস্থিত থাকলে আক্রানত্ম ব্যক্তির হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত :

1.      যদি এমন ঘটনা ঘটে, অক্সিকান্ডে একটি বদ্ধ ঘরে ঘটেছিল (যেম আপনার শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার ল্যাব) এবং আক্রানত্ম ব্যক্তিটি সেখানে দশ মিনিটের বেশী আটকে ছিলেন।

2.      যদি আক্রানত্ম ব্যক্তির কাশির সাথে ঘন কালো কফ বের হয়।

3.      ব্যক্তিটি যদি শ্বাস কষ্টে ভুগতে থাকেন।

4.      শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে ব্যক্তিটির বুক থেকে যদি বাঁশির আওয়াজের মত শব্দ বের হতে থাকে।

5.      আক্রানত্ম ব্যক্তির মুখ মন্ডল যদি পুড়ে যেয়ে থাকে।  

 

দুর্ঘটনা পরবর্তী জটিলতা : আমেরিকার কটি গবেষণায়, সাড়ে আটশত জন দশ থেকে আঠার বৎসর বয়সি শ্বাসণালী পোড়া রোগীদের মধ্যে দেখা গেছে, সেখানে মৃত্যুর হার ১৬.% এবং এই ড়্গেত্রে শ্বাসণালী পোড়ার সাথে যদি চামড়ায় পোড়া ড়্গত থাকেত তাহলে মৃত্যুর হার চার গুণ বেশী। আক্রানত্মব্যক্তি ক্রমাগত সুস্থ হয়ে উঠতে থাকলেও ফুসফুস কিছু কিছু সমস্যা থেকে যেতে পারে। ড়্গতিগ্রস প্রধান শ্বাসণালীগুলি স্থায়ীভাবে সরম্ন হয়ে যেতে  পারে।

অপর দিকে শ্বাসণালীর কিছু কিছু অংশ ড়্গতিগ্রস্থ হয়ে এর দেয়ালের স্থিতি স্থাপকতা নষ্ট হয়ে স্থায়ীভাবে প্রসারিত (bronchiectasis) থেকে যায়। ফলে এই শ্বাসণালীগুলি ঘন ঘন জীবাণু দ্বারা আক্রানত্ম হয়।

ফুসফুসের কোন কোন অংশে প্রদাহ জনিত তরল (pulmonary edema) জমে, এর অক্সিজেন সরবরাহের ড়্গমতা কমিয়ে দেয়। আবার অনেক ড়্গেত্রে ফুসফুসের কিছু কিছু অংশ চুপশে যেয়ে (atelectasis) অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া নিউমোনিয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের বিকলতা (respiratory failure) হল এর মারাত্মক জটিলতা গুলির অন্যতম।

 

কিভাবে আপনি আপনার শ্বাসণালীকে অগ্নিকান্ডের সময় রড়্গা করবেন ?

1.      সবচেয়ে ভাল উপায় হল, অগ্নিকান্ড প্রতিরোধ করা। আধুনিকতার নামে অনেক ড়্গেত্রে আমার আমাদে ঘর-বাড়ি, অফিস, স্কুল, মার্কেট কংক্রিট এবং কাঁদ দিয়ে ঘিরে ফেলে তথাকথিত শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত আবদ্ধ কড়্গে পরিণত করছি। এই সকল আবদ্ধ কড়্গে অগ্নিকান্ড হলে শ্বাসণালী সবচেয়ে বেশী ড়্গতিগ্রস্থ হয়। তাই সব  কড়্গেই থাকা উচিৎ ¯^vfvweK বায়ু চলা চলের ব্যবস্থা। অগ্নিকান্ডের সময় সম্ভব হলে সব দরজা জানালা খুলে দিয়ে ধোঁয়া বাইরে বেরি যেতে দিন অথবা বাইরের দিকে কাঁদের দেয়াল থাকলে তা ভেঙ্গে দিয়ে ধোঁয়া বেরিয়ে যেতে দিন।

অনেক বহুতল ভবনই অগ্নিকান্ডের সময় বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। নিচের দিকে কোন তালায় অগ্নিকান্ড হলে সবাই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার চেষ্টা করেন। উপরে উঠুন, তবে নিশ্চিত থাকুন। ছাদের দরজা খোলা আছে, তা না হলে আপনি ধোঁয়ার ফাঁদে আবদ্ধ হতে পারে।

 

2.      খেয়াল রাখুন আপনার আসবাবপত্রগুলি যেন এমন বস্তু দিয়ে তৈরি হয়, যাতে তা পুড়ে গেলেও, তা থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া যেন বিষাক্ত না হয়।

3.      যদি আপনার গৃহে কিংবা কারখানায় অতিরিক্ত দাহ্য পদার্থা থাকে, তবে অগ্নিকান্ডে সতর্কীকরণ এলার্ম পদ্ধতি ব্যবহার করম্নন, যা অনেক ড়্গেত্রেই প্রাণহানি কমাবে।  

             


 

স্যার ইয়ান বোথামের একটি কাল্পনিক সাড়্গাৎকার

112226649-1024x1024.jpg

ক্রিকেট পাগল প্রায় সব মানুষেই ইয়ান বোথামকে চেনেন। যেমন- মেজাজি, তেমনি তুখোড় খেলোয়াড়। তিনি এক সময় ইংল্যান্ডের টেষ্ট দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার চেয়ে বড় কথা আজ পর্যনত্ম ক্রিকেট ইতিহাসে তিনি অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। টেষ্ট ক্রিকেটে তার রয়েছে ১৪টি শতক এবং একই সাথে ৩৮৩টি ইউকেট। আজকের সাড়্গাৎকারটি মূলত অ্যাজমা এবং ক্রিকেটের উপর এর প্রভাব নিয়ে। আপনারা হয়ত জেনে থাকবেন বোথাম এমন একজন জনপ্রিয় মানুষ, যিনি অ্যাজমাকে জয় করে, ক্রিকেটের অনেক সাফল্যই নিজ ঝুলিতে ভরেছেন।

লেখক         আপনি কি অ্যাজমাকে কখনও ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বাধা হিসেবে গণ্য করেছেন ?

বোথাম                    কখনই না। কারও যদি অ্যাজমা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ াকে, চাইলে সে বিশ্ব জয় করতে পারে। আপনি           ডেভিড বেকহেমকেই (ইংল্যান্ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক) দেখেন, অ্যাজমাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে,     কিভাবে ফুটবলের মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছে।

লেখক         কখন আপনি বুঝতে পারলেন, যে আপনি অ্যাজমায় আক্রানত্ম হয়েছেন ?

বোথাম                    আসলে অ্যাজমা m¤^‡Ü আগে আমার ধারণা ছিলনা। আমি লড়্গ্য করলাম ১০/ মিনিট েলা পর,    বুকে চাপ অনুভব করছি, শ্বাস কষ্ট হচ্ছে, হঠাৎ করে কাশি শুরম্ন হল এবং আমি খুবই দুর্বলতা অনুভব করছি। রকম কয়েকবার হবার পর আমি একজন চিকিৎসকের শরনাপন্ন হলাম, তখনই ধরা পড়ল             আমি অ্যাজমাতে আক্রানত্ম।

লেখক           কোন সময় আপনি অ্যাজমায় বেশি আক্রানত্ম হতেন ?

বোথাম                    যখন খেলাটা ঠা- বাতাসে হত এবং সে সময় যদি আমি মুখ দিয়ে ঘনঘন শ্বাস নিই, তা হলে প্রায়   অবসম্ভাবি ছিল যে, আমার একটা অ্যাজমা এ্যাটাক হতে যাচ্ছে অথবা ইংল্যান্ড যে সময়টা বাতাসে         ফুলের ভাসমান পরাগ রেনু বেশী থাকে। ধরম্নন বসনত্মকাল, সে সময়টা আমি সমস্যায় পড়ে যেতাম।

লেখক         আপনি নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার করেন, বিষয়টা কি নিরাপদ এবং কার্যকরী মনে হচ্ছে ?

বোথাম                    প্রথম প্রথম কিছুটা সমস্ হত, পরবর্তীতে ইনহেলার নেয়ার পদ্ধতি ভালভাবে রপ্ত করতে পেরেছি।        আসলে এটাই সবচেয়ে কার্যকরী এবং        নিরাপদ ওষুধ।

লেখক         মাঠে অ্যাজমা দ্বারা যাতে আক্রানত্ম না হন সে জন্য কি কি সাবধানতা Aej¤^b করেন ?

বোথাম                    খেলা শুরর আগে, গা গরমের জন্য হালকা ব্যায়াম করে নিই। খেলা শুরম্নর আগে আগে ইনহেলার        ব্যবহার করি। শ্বাস প্রশ্বাস মুখ দিয়ে না নিয়ে সব সময় নাক দিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। খেলার ফাঁকে   ফাঁকে প্রয়োজনে ইনহেলার ব্যবহার করি। খেলার শেষে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিই।                         

লেখক         যে সব শিশু অ্যাজমাতে আক্রানত্ম কিন্তু আপনার মত নামকরা ক্রিকেটার হতে চায়, তাদের জন্য আপনার           পরামর্শ কি ?            

 

বোথাম                    নিজের অ্যাজমাকে ভালভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখ, এরপর ক্রিকেট ব্যাট হাতে েম যাও মাঠে।

লেখক         আপনাকে ধন্যবাদ।

বোথাম                    আপনাকেও ধন্যবাদ।


 

যড়্গা রোগের লড়্গণ

 

88.jpg

বাংলাদেশে এখনও যড়্গায় আক্রানত্ম রোগীর সংখ্যার দিক দিয়ে অন্যতম ভারাক্রানত্ম দেশ। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ। এই রোগটি যেহেতু একটি সংক্রমণ ব্যাধি, তাই রোগটির লড়্গণ জেনে দ্রম্নত চিকিৎসা শুরম্নর মাধ্যম রোগটির বিসত্মার রোধ করার সাথে সাথে অনেক মৃত্যু জটিলতা ঠেকানো সম্ভব। যড়্গা এমন একটি রোগ যা শরীরের যে কোন অংশে হতে পারে,  তাবে সবচেয়ে আক্রানত্ম হয়ে থাকে মানুষের ফুসফুস। তাই এই সংক্রানত্ম লড়্গণগুলি আলোচিত হল।

1.      রোগী দীর্ঘস্থায়ি কাশিতে ভুগতে থাকে। বলা হয়ে থাকে কাশি তিন সপ্তাহের বেশী স্থায়ি হলে, রোগীর উচিত তার যড়্গা হল কিনা তা জানার চেষ্টা কর। তবে ফুসফুসের আরো অনেক রোগের কারণে এমন দীর্ঘস্থায়ী কাশি হতে পারে।

2.      রোগীর সন্ধ্যায় জ্বর আসে। তবে জ্বর সাধারণত ¯^í মাত্রার হয়ে থাকে। এই জ্বর সাধারণত কাশির মতই দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে।

3.      রোগীর খাবারের রম্নচি কমতে থাকে। সাথে সাথে রোগীর ওজনও কমতে থাকে।

4.      কাশির সাথে কফ বের হয়। এই কফের সা প্রায়ই রক্ত মিশ্রিত থাকে।

5.      রোগীরা প্রায়ই অভিযোগ করে তাদের শরীর রাতে প্রায়ই ঘামে ভিজে যায়।

উপরোলিস্নখিত লড়্গণগুলির মধ্যে একাধিক লড়্গণ বিদ্যমান থাকলে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।    

 

 

ইনহেলার নেওয়ার পদ্ধতি

 

7889.jpg

বিভিন্ন রোগ যেমন অ্যাজমা, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসরোধক রোগ (COPD ) প্রভৃতি প্রধান ঔষধগুলি আমরা ইনহেলারের মাধ্যম শ্বাসের সাথে বুকের মধ্যে টেনে নিই। ইনহেলার টানতে যেয়ে আমাদের অনেক সম্মানিত রোগী, ইনহেলার থেকে বের হওয়া ঔষধ খেয়ে ফেলেন, মুখে জমিয়ে রাখেন কিংবা নাক মুখ দিয়ে ঔষধ বের করে  দেন, ফলে ঔষধগুলি অনেক ড়্গেত্রে কোন কাজেই আসে না।

মনে রাখতে হবে ঔষধ আমার ফুসফুসের জন্য, সুতরাং ইনহেলারের ঔষধ শ্বাসের সাথে বুকে টেনে নিতে হব ইনহেলার সার্বিকভাবে নেয়ার জন্য নীচের ৬টি ধাপ ক্রম অনুসারে খেয়াল করম্নন।

1.      ইনহেলারটি হাতের বুড়া আগুল এবং তর্জনীর মধ্যে ছবির মত করে ধরম্নন এবং বার ভাড়াভাবে উপর নীচে ঝাঁকিয়ে নিন।

2.      এর পর ইনহেলারের মুখ লাগানোর অংশের খাপটি খুলে নিই।

3.      ইনহেলার মুখে লাগানোর আগে, পরিপূর্ণভাবে শ্বাস ফেলে ফুসফুস খালি করি।

4.      এবার ইনহেলারটি মুখ লাগানোর অংশটি দুই ঠোট দিয়ে চেপে ধরি।

5.      এর পর ইনহেলারের চাপ দেয়ার অংশে, তর্জনী দিয়ে চাপ দিই এবং চাপ দেয়অর সাথে সাথে বের হওয়া ঔষধ একই সাথে শ্বাসের সাথে বুকের গভীরে টেনে নিই।

6.      টেনে নেয়া ঔষধ বুকে দশ সেকেন্ড আটকে রাখি। প্রয়োজনে মিনিট পর দ্বিতীয় চাপের ঔষধ একইভাবে টেনে নিই। ইনহেলরে যদি স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ থাকে তবে ব্যবহারের পর ভালভাবে গড়গড়া করে কুলি করতে হবে।   

 

 


 

সি..পি.ি (দীর্ঘস্থায় শ্বাসরোধক রোগ) এর লড়্গণ

 

ছবিটি একজন খুবই মারাত্মকভাবে আক্রানত্ম সি..পি.ি রোগীর। এই রোগীর প্রয়োজন হয় j¤^v সময় ধরে অক্সিজেন। রোগীদের মাংসেপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। রোগী সামান্যতম নিজের ব্যক্তিগত কাজ করতে যেয়ে শ্বাস কষ্টে আক্রানত্ম হয়। এক সময় ৃৎপি- তার ¯^vfvweK কর্ম ড়্গমতা হারায়।

151.jpg

 


 

পরীড়্গার জন্য কফ দেয়ার সঠিক পদ্ধতি

 

যড়্গা রোগের জীবাণু দেখার জন্য কফ পরীড়্গা করতে দেয়া হয়। এর জন্য মুখের লালা দিলে কোন লাভ হবে না। কফ বের করার পদ্ধতি দেখুন। কফ দেয়ার আগে ভাল মত কুলি করে নিন। খালি পেটে কফ দেয়া ভাল।

6666666666.jpg

 


 

ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে দাঁতের যত্ম নিন

 

51.jpg

আপনি হয়ত জানেন প্রধান শ্বাসণালী (trachea) এবং াদ্যণালী প্রধঅন ছিদ্রপথ খুব কাছাকাছি মুখ গহ্বরের পিছন দিকে অবস্থিত। সুতরাং মুখের লালা, খাদ্যকণা, জীবাণু, সময় সময় নকল দাঁত অথবা মুখের যে কোন ময়লা শুধু পেটে না প্রধান শ্বাসণালী দিয়ে চলে যেতে পারে ফুসফুসে। এই দ্রব্যগুলি ফুসফুসে যেতে বাধা দেয় দুই পাহারাদার যথা- এপিগস্নটিস (epiglotis)Ges ভোকাল কর্ড (vocal cord)| কিন্তু এরপরও মুখের তরল দ্রবীভূ কিছু অংশ চুইয়ে চুইয়ে চলে যায় ফুসফুসে। এটি বেশী ঘটে ঘুমের মধ্যে। আর খুব বেশী ঘটে কেউ যদি অজ্ঞান অবস্থায় থাকে অথবা কেউ যদি স্ট্রোকে আক্রানত্ম চুইয়ে চুইয়ে চলে যায় ফুসফুসে। এটি বেশী ঘটে ঘুমের মধ্যে। আর খুব বেশী ঘটে কেউ যদি অজ্ঞান অবস্থায় থাকে অথবা কেউ যদি স্ট্রোকে আক্রানত্ম হয় কিংবা কারো যদি খাদ্যণালীতে সমস্ থাকে প্রভৃতি। মুখ গহ্বরে যদি ঘা থাকে, দাঁতের মারীতে যদি ইনফেকশন থাকে তবে লালাতে জীবাণুর পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়, এই অতিরিক্ত জীবাণু মিশ্রত লালা ফুসফুসে পৌঁছালে হতে পারে নিউমোনিয়া (pneumonia) অথবা ফোঁড়া (lung abscess)| তাই দাঁতের যত্ন নিলে আপনার ফুসফুসও ভালও থাকবে।          

 

 


 

শ্বাস কষ্টের নানা কারণ

 

3333333333333333333333333333.jpg

একজন রোগী, রোগের যে সব লড়্গণ নিয়ে আসে, তার মধ্যে শ্বাস কষ্টে ভোগা তাকে সবচেয়ে বেশী বিচলিত করে। আমাদের শরীরের প্রধানতম দুটি অঙ্গ যথা ফুসফুস বা হৃৎপি- আক্রানত্ম হলে মানুষ সবচেয়ে বেশি শ্বাসকষ্টে ভুগে থাকে। তবে এর বাইরে আরো অনেক কারণে রোগীরা শ্বাসকষ্টে ভুগে থাকে।

কোন রোগী শ্বাস কষ্টে ভুগতে থাকলে চিকিৎসকরা কয়েকটি জিনিস জানার চেষ্টা করেন। যেমন-

1.      শ্বাস কষ হঠাৎ করে শুরম্ন হয়েছে কিনা ? যেমন- হার্ট ফেউলিয়র (অর্থা হৃৎপি- পরিমাণ মত কাজ করার অড়্গমতা), নিউমোনিয়া, ফুসফুসের বড় শ্বাসণালীগুলিতে হঠাৎ বাইরের কোন বস্তু ঢুকে যাওয়া, ফুসফুস হঠাৎ করে ফেটে যাওয়া প্রভৃতি।

2.       শ্বাস কষ্ট অনেক দিন ধরে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে কিনা ? যেমন- সি..পি.ি (দীর্ঘস্থায় শ্বাসরোধক রোগ), .এল.ি (